২টি শতরান, শচীনের রেকর্ডভঙ্গ, সামির ৭ উইকেট, ফাইনালে ভারত

ভারতীয় বিক্রমের সামনে উড়ে গেল নিউজিল্যান্ড। মাঠে ২টি শতরান হল। শচীন তেন্ডুলকরের সামনেই ভাঙল তাঁর বহুদিনের রেকর্ড। আর দিওয়ালীর আতসবাজি হয়ে জ্বললেন সামি।

সেমিফাইনালে সেঞ্চুরির পর বিরাট কোহলি, ছবি - আইএএনএস

একদিনের ক্রিকেটের বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হেলায় হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে গেল ভারত। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল খেলার টস। সেই টসও রোহিত শর্মাই জিতেছিলেন। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত জানান তিনি। মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে দুপুরের গরমে ব্যাট করাই ছিল সঠিক সিদ্ধান্ত।

যে কারণে টস হারার পর কিউয়ি অধিনায়ক জানান জিতলে তিনিও ব্যাটই নিতেন। ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভার থেকেই দাপুটে ব্যাটিং শুরু করেন রোহিত শর্মা ও শুভমান গিল। প্রথম দিকে শুভমান একটি দিক ধরে থাকলেও রোহিত ছিলেন শুরু থেকেই মারমুখী।

রোহিত ৪৭ রানে ফেরার পর বিরাট কোহলি ব্যাট করতে নামেন। ততক্ষণে শুভমানও মারমুখী মেজাজ পেয়ে গেছেন। এঁরা দুজনে ভারতের রান রেটকে ধরে রেখে প্রবল বিক্রমে ব্যাট করতে থাকেন। ফলে ভারতের রানরেট কখনও ঝিমিয়ে পড়েনি।

প্রায় ৮০ রানের কাছে পৌঁছে শুভমান পায়ে টান ধরায় মাঠ ছাড়েন। বিরাটের সঙ্গে জুটি বাঁধেন শ্রেয়স আইয়ার। শ্রেয়সকে এদিন শুরু থেকেই অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী দেখিয়েছে। তবে বিরাট ছিলেন অনবদ্য।

শচীন তেন্ডুলকর একদিনের ক্রিকেটে এখনও সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি করার রেকর্ড ধরে রেখেছিলেন। ৪৯টি সেঞ্চুরি ছিল তাঁর ঝুলিতে। বিরাট এদিন ৫০ তম সেঞ্চুরি করে মুম্বইয়ের মাঠে শচীন তেন্ডুলকর স্টেডিয়ামে উপস্থিত থাকাকালীন তাঁর সামনেই রেকর্ড ভঙ্গ করে দেখান।

বিরাট শতরান করে দ্রুত ফেরার পর শ্রেয়সও শতরান করেন। শ্রেয়স শতরান করতে এদিন চারের চেয়ে ছক্কা হাঁকান বেশি। ভারত ইনিংস শেষ করে ৩৯৭ রান করে।

৩৯৮ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে নিউজিল্যান্ড দ্রুত ২টি উইকেট হারানোর পর ডারিল মিচেল আর কেন উইলিয়ামসন শক্ত হাতে লড়াই শুরু করেন। লড়াই এমন পর্যায়ে নিয়ে যান যে একটা সময় একটু হলেও ভারতীয় সমর্থকদের কপালে ভাঁজ ফেলে দিয়েছিলেন তাঁরা।

বিধ্বংসী চেহারায় ব্যাটিং করা মিচেল ৮০-র ঘরে ব্যাট করার সময় সামি হাতে ক্যাচ পান। কিন্তু হাতছাড়া করেন। কিন্তু সেই সামিই এক ওভারে উইলিয়ামসন এবং টম ল্যাথামকে আউট করে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেন।

উইকেট নেওয়ার পর উচ্ছ্বাস মহম্মদ সামির, ছবি – আইএএনএস

এদিন যদি ব্যাটিংয়ে বিরাট কোহলি এবং শ্রেয়স আইয়ার সবচেয়ে বেশি ঝলমল করেছেন, তো বোলিংয়ে সামি একাই এদিন দিওয়ালীর আতসবাজি হয়ে জ্বলে উঠেছেন মাঠে। সামির সংগ্রহ এদিন ৭ উইকেট।

নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ভারতকে বোলিং আক্রমণ দিয়ে ফাইনালে পৌঁছে দেওয়াটা এদিন কার্যত একাই সামলালেন মহম্মদ সামি। এদিন ৭০ রানে জিতে আগামী রবিবার বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলতে নামবে ভারত।