World

৫০০ বছরেও এই আবাসনের ভাড়া বাড়েনি, বাসিন্দাদের মানতে হয় কয়েকটি নিয়ম

আজকের দুনিয়ায় যেখানে একটু মাথাগোঁজার জায়গা পেতে মানুষকে বিপুল অর্থ খরচ করতে হয়, সেখানে গত ৫০০ বছরেও ভাড়া বাড়েনি এই সামাজিক আবাসনের।

মানুষের প্রাথমিক চাহিদাগুলির মধ্যে অন্যতম হল একটি নিশ্চিন্ত আশ্রয়। কিন্তু আজকের দিনে ফ্ল্যাট কেনা মুখের কথা নয়। আবার ভাড়াবাড়িতে থাকতে গেলেও প্রতিমাসে মোটা টাকা গুনতে হয়। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষদের পক্ষে জীবন চালানোই কষ্টকর হয়ে যায়।

এই যুগেও পৃথিবীর একটি দেশে এখনও এমন আবাসন রয়েছে যেখানে গত ৫০০ বছরেও বাড়িভাড়া বাড়েনি। নামমাত্র অর্থের বিনিময়ে এখানে নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন মানুষজন।

এখানে থাকতে গেলে এখনও মানুষকে মাসে মাত্র ১ ডলারের মত খরচ করতে হয়। ভারতীয় মুদ্রায় যা ১০০ টাকারও কম। এই ভাড়ায় প্রথম বিশ্বের এই দেশে ৫০০ থেকে ৭০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটে নিশ্চিন্ত বসবাস অনেকটা স্বপ্নের মত। তবে এটাই সত্যি।

এই আজব আবাসন রয়েছে জার্মানির অগসবার্গে। এখানে ফুগেরেই নামে বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো সামাজিক আবাসন প্রকল্প তৈরি হয়েছিল। জ্যাকব ফুগার নামে এক অত্যন্ত ধনী ব্যক্তি ১৫২১ সালে এই আবাসন নির্মাণের জন্য নিজের জমি দান করেন।

সেখানেই তৈরি করেন ফুগেরেই। দরিদ্র এবং আর্থিকভাবে অক্ষম মানুষদের জন্য এই প্রকল্পটি করেছিলেন জ্যাকব ফুগার। সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অসামান্য উদাহরণ তৈরি করেন তিনি।

ফুগার পরিবারের তৈরি এই আবাসনটি প্রথমে ৫২টি বাড়ি নিয়ে তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে সেখানে ১৪৭টি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। ফুগেরেইয়ের এই আবাসনের সব বাড়িগুলি, এমনকি বাড়ির দরজাও একরকম দেখতে। তবে প্রতিটি বাড়ির কলিং বেলের আওয়াজ আলাদা। সেই আওয়াজ শুনেই ঘর চিনতে হয়।

তবে যে কেউ ফুগেরেইয়ের আবাসনে থাকতে পারেননা। এখানকার বাসিন্দাদের কিছু নিয়ম মানতে হয়। এখানে থাকতে গেলে কমপক্ষে ২ বছর অগসবার্গের বাসিন্দা হতে হয়। ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের মানুষ ছাড়া এখানে ভাড়া পাওয়া যায়না।

আবাসন পাহারা দেওয়া থেকে বাগান পরিচর্যা সব বাসিন্দাদেরকেই করতে হয়। রাত ১০টার পর এখানে ঢোকা মানা। এছাড়া তাঁর পরিবারের সুস্বাস্থ্য ও উন্নতির জন্য দিনে ৩ বার করে ঈশ্বরের কাছে এই আবাসনে জায়গা পাওয়া মানুষজনকে প্রার্থনা করার অনুরোধ করেছিলেন জ্যাকব ফুগার।

বর্তমানে ফুগেরেই পর্যটকদের কাছে একটি আকর্ষণীয় স্থান হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানকার বাসিন্দারা আজকের দিনেও এমন টাকায় নিশ্চিন্ত আশ্রয়ে থাকতে পারেন। তবে চাইলেই এখানে জায়গা পাওয়া যায়না। সেজন্য আবেদন করে অপেক্ষায় থাকতে হয়।


পড়ুন আকর্ষণীয় খবর, ডাউনলোড নীলকণ্ঠ.in অ্যাপ
Show Full Article

News Desk

নীলকণ্ঠে যে খবর প্রতিদিন পরিবেশন করা হচ্ছে তা একটি সম্মিলিত কর্মযজ্ঞ। পাঠক পাঠিকার কাছে সঠিক ও তথ্যপূর্ণ খবর পৌঁছে দেওয়ার দায়বদ্ধতা থেকে নীলকণ্ঠের একাধিক বিভাগ প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছে। সাংবাদিকরা খবর সংগ্রহ করছেন। সেই খবর নিউজ ডেস্কে কর্মরতরা ভাষা দিয়ে সাজিয়ে দিচ্ছেন। খবরটিকে সুপাঠ্য করে তুলছেন তাঁরা। রাস্তায় ঘুরে স্পট থেকে ছবি তুলে আনছেন চিত্রগ্রাহকরা। সেই ছবি প্রাসঙ্গিক খবরের সঙ্গে ব্যবহার হচ্ছে। যা নিখুঁতভাবে পরিবেশিত হচ্ছে ফোটো এডিটিং বিভাগে কর্মরত ফোটো এডিটরদের পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে। নীলকণ্ঠ.in-এর খবর, আর্টিকেল ও ছবি নিখুঁত ভাবে যাচাই করার পরই প্রকাশিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *