কৌতূহলে গাছের কোটরে ঢোকে এক কিশোর, আবিষ্কার হয় ২২ হাজার বছর পুরনো ইতিহাস
একটি গাছের কোটর। তার ভিতরে কি আছে দেখার জন্য সঙ্গী কুকুরটিকে নিয়ে সেখানে ঢোকে এক কিশোর। সেখান দিয়ে যেখানে পৌঁছয় তা চমৎকার বললেও কম বলা হয়।
ভেঙে পড়া একটি গাছের পাশেই ছিল একটি বড় গাছ। যার গুঁড়ির একটা অংশে বড় ফোঁকর ছিল। গাছের কোটর যাকে বলে। সেই ফাঁকের মধ্যে কি আছে? সেটা দেখার কৌতূহলে সঙ্গী কুকুরটিকে নিয়ে সে ঢুকে পড়ে সেখানে।
গাছের সেই ফাঁকের মধ্যে একটু একটু করে এগিয়ে সে আবার একটি ফাঁক দেখতে পায়। যা এতটাই সরু যে সেখান দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করা মুশকিল। সেদিনের মত সে ফিরে এলেও পরে সে তার গ্রামের আরও ৩ বন্ধুকে নিয়ে সেখানে হাজির হয়। তারপর কিছু যন্ত্রপাতি কাজে লাগিয়ে ওই ফাঁকটি বড় করে।
রাভিদা নামে ওই কিশোর এরপর ওই ফাঁক দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে আরও ভিতরে ঢুকে যায়। ঢুকে একটি গুহায় পৌঁছয় সে। যেখানে পৌঁছে সে অবাক হয়ে যায়। যেখানে পাথরের গায়ে নানা ছবি আঁকা রয়েছে। প্রাচীন গুহাচিত্র।
তারমানে একসময় এখানে আদি যুগের মানুষের বাস ছিল! এখানে পৌঁছে অবাক হওয়ার আরও বাকি ছিল। কিশোর সেই গুহাটি পার করে একটি অন্ধকূপের দেখা পায়। যেখান দিয়ে সে পৌঁছে যেতে পারে একটু নিচের দিকে।
এবার সেখানে পৌঁছনোর পালা। সেই অন্ধকূপে নামলে কি পাওয়া যাবে তার কোনও ধারনা ছাড়াই নিছক কৌতূহল বশত সেখানে সাহসে ভর করে নেমে পড়ে ওই কিশোর। সেখানে পৌঁছে সে গুহার আরও একটি অংশের খোঁজ পায়।
এখানে আবার সে একটি বিশাল বাইসনের ছবি দেখতে পায়। যা পাথরের ওপর আঁকা ছিল। ফ্রান্সের লাস্কো গুহার এই চিত্র কিন্তু এখনও সকলকে নাড়া দেয়।
এই গুহার খোঁজ পাওয়ার পর সে খবর আস্তে আস্তে ছড়াতে থাকে। ক্রমে প্রত্নতাত্ত্বিকরা সেখানে হাজির হন। তাঁরা যাচাই করে ওই কিশোরের গাছের কোটরের মধ্যে দিয়ে কৌতূহল বশত ঢোকার ফলে এক অনন্য আবিষ্কারের কথা জানতে পারেন।
আনুমানিক ২২ হাজার বছর আগে ওই গুহায় সেই সময়ের আদি মানুষের বাস ছিল। তাঁরাই এই ছবি এঁকেছিলেন এই লাস্কো গুহায়। সব মিলিয়ে ওই গুহায় ৬০০টির মত গুহাচিত্রের খোঁজ পেয়েছেন বিশেষজ্ঞেরা।













