মনিব কবে ফিরবে, না খেয়ে মনিবের অপেক্ষায় দিন গুনছে সারমেয়, এ ঘটনা চোখে জল আনবে
১ মাস পেরিয়ে গেছে। এক সারমেয় ঠায় বসে আছে তার মনিবের দরজায়। মনিবের আসার অপেক্ষায়। মুখে তুলছে না খাবার। কেঁদে চলেছে। এ কাহিনি চোখে জল আনবে।
এক ব্যক্তি একাই থাকতেন। তাঁর পোষা সারমেয়টির সঙ্গেই তাঁর দিন কেটে যেত। যদিও বা মাঝেমধ্যে তাঁকে বাইরে যেতে হত, সেই সারমেয় বা কুকুরটি তাঁর দরজার সামনে ঠায় অপেক্ষায় থাকত। কখন তার মনিব ফিরে আসবে।
মনিব ফিরলে ফের তাঁর সঙ্গে লেপ্টে থাকত সে। এভাবেই দিন কাটছিল। গত ১১ ডিসেম্বর অসুস্থতার কারণে ওই ব্যক্তির জীবনাবসান হয়। কিন্তু সে কথা তার পোষ্যটি বোঝেনি। সে ভেবেছিল অন্য দিনের মত তার মনিব বাইরে গেছে। ফিরে আসবে।
তারপর ফের তার সঙ্গে থাকবে। খেলা করবে। তাকে ভালবাসবে। কিন্তু দিন কাটে। রাত কাটে। মনিব ফেরে না। সে কুকুরও মনিবের দরজার পাশ ছেড়ে নড়ে না। খাবার, জল সব ত্যাগ করে সে শুধু বসে থাকে দরজায়। মনিবের অপেক্ষায়। যে অপেক্ষা কোনওদিন শেষ হওয়ার নয়।
এভাবে দিনের পর দিন যায়। কুকুরটি দরজার ধার ছাড়েনি। আশপাশের বাসিন্দারা তাকে খাবার, জল খাওয়ানোর চেষ্টা করলেও সে বুঝিয়ে দেয় মনিব না আসা পর্যন্ত সে এসব মুখে তুলবে না।
জানুয়ারির শুরুতে শহরের পারদ ২ ডিগ্রিতে নেমে যায়। ভয়ংকর ঠান্ডার সঙ্গে চলছিল ঝড়বৃষ্টি। সারমেয়টি হঠাৎ দরজার সামনে থেকে উধাও হয়ে যায়। স্থানীয় এক মহিলা দেখেন ঝড়বৃষ্টির মধ্যে সেই সারমেয়টি একটি ঝোপের মধ্যে ঠকঠক করে কাঁপছে। তার ২ চোখ দিয়ে জল ঝরে পড়ছে।
এভাবে তাকে বাঁচানো যাবেনা এটা বুঝে স্থানীয় এক ব্যক্তি তাকে নিজের কাছে রাখতেও চেয়েছেন। কিন্তু সেই সারমেয় কি অন্য কাউকে তার মনিব বলে মেনে নেবে? তা এখনও পরিস্কার নয়।
সে এখনও তার মনিবের অপেক্ষায় না খেয়ে দিন গুনে চলেছে। ঘটনাটি ঘটেছে চিনের সাংহাই শহরে। এ কাহিনি সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে জায়গা করে নিয়েছে।













