কারও আনন্দ তো কারও দুঃখ, শহর বেজায় খুশি, লাগোয়া গ্রামের মানুষ কষ্টে কাঁপছেন
এ যেন সেই প্রবাদকে সত্যি করছে। কারও পৌষ মাস তো কারও সর্বনাশ। যেখানে শহরের প্রশাসন আনন্দে আত্মহারা, সেখানে আশপাশের গ্রামের মানুষের দিন কাটানো দুরূহ হয়ে উঠেছে।
দিনের যে সময়টা রোদ উঠছে সে সময় গায়ে মোটা কম্বল বা গরমের যা পোশাক বাড়িতে আছে তা গায়ে চড়িয়ে রোদে দাঁড়িয়ে থাকছেন তাঁরা। রোদ যেন ঘরের মধ্যে যতটা সম্ভব প্রবেশ করতে পারে সেদিকে নজর রাখছেন। কারণ এই রোদই তাঁদের বেঁচে থাকার ভরসা।
এই রোদই তাঁদের সন্ধে নামার পর থেকে সারারাত কাটতে সাহায্য করবে। যতক্ষণ না পরদিন রোদ উঠছে। রোদের তেজ খুব কম নয়। পারদ বলছে সর্বোচ্চ উত্তাপ গ্রামগুলিতে ২৮ ডিগ্রির আশপাশে। সেই উত্তাপের যতটা পারা যায় শুষে নিতে মরিয়া গ্রামবাসীরা।
শরীরটা যতটা সম্ভব তাতিয়ে নেওয়া যায়। বাড়ি ঘর যতটা পারা যায় এই গরমে সেঁকে নেওয়া যায়। কারণ তাঁদের পকেটে অত টাকাও নেই যে তাঁরা সরকারি নিময় মেনে ঘর গরম করে সেখানে শীতের কনকনে রাতগুলো কাটিয়ে দেবেন।
কারণ চিনে এখন ঘর গরম করতে কয়লা ব্যবহার নিষিদ্ধ। ঘর গরম রাখতে, শরীরটায় একটু তাপ পোহাতে কাঠও ব্যবহার করা যাবেনা। সেটাও নিষিদ্ধ। সরকার আগেই জানিয়েছিল গ্যাস ব্যবহার করতে হবে হাড় কাঁপানো শীতের দিনে ঘর গরম করতে।
সেই গ্যাসের দামে ভর্তুকিও দিচ্ছিল সরকার। যাতে গ্রামের দরিদ্র মানুষগুলো অন্তত শীতের দিনগুলোয় সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে পারেন। কিন্তু এ বছর থেকে সেই গ্যাসের ওপর ভর্তুকি প্রত্যাহার করে নিয়েছে চিনের সরকার। ফলে এখন যে দাম তাঁদের গুনতে হচ্ছে তা তাঁদের সাধ্যের বাইরে।
তাই গ্যাস দিয়ে ঘরকে গরম রাখার কথা ভাবতেও পারছেন না অধিকাংশ গ্রামবাসী। বেজিং লাগোয়া গ্রামগুলিতে তাই রোদ উঠলেই এখন মানুষ সব ফেলে গরম পোশাক পরে রোদে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকছেন। ঘরগুলোকে রোদ শুষে নিতে দিচ্ছেন। তাতে পুরোপুরি শীত থেকে রেহাই যে হচ্ছে এমনটা নয়। তবে যেটুকু হয়!
বেজিংয়ের সরকারি আধিকারিকরা অবশ্য বেজায় খুশি। কথায় বলে কারও পৌষ মাস তো কারও সর্বনাশ। ঠিক এমনটাই হচ্ছে বেজিং লাগোয়া শহর ও গ্রামের মধ্যে। সরকারি আধিকারিকরা যখন খুশিতে ডগমগ, তখন গ্রামের মানুষ বুঝেই ঠতে পারছেন না কীভাবে দিনগুলো কাটবে।
চিনের রাজধানী শহর বেজিংয়ে সরকারি আধিকারিকরা বুক ফুলিয়ে ঘোষণা করেছেন তাঁদের নেওয়া পদক্ষেপে বেজিং শহরের বায়ু দূষণ অনেকটাই কমেছে। ২০২৫ সালে কেবল ১ দিন এমন গেছে যেখানে বেজিংয়ের বাতাসের দূষণ মাত্রা লাগামছাড়া ছিল।
কাঠ বা কয়লা পুড়িয়ে ঘর গরম করায় লাগাম টেনে বেজিংয়ের বায়ু দূষণ কমেছে ঠিকই, তবে গ্যাসের ওপরও ভর্তুকি তুলে নেওয়া বেজিং লাগোয়া গ্রামগুলির মানুষজনের শীত থেকে বাঁচার ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে। রোদের ওপর ভরসা করেই তাঁদের হাড় কাঁপানো শীত কাটাতে হচ্ছে। — সংবাদ সংস্থার সাহায্য নিয়ে লেখা













