২ সন্তানকে বড় করে বাবা জানলেন তারা তাঁর সন্তান নয়, ২ জন ২ ভিন্ন ব্যক্তির ঔরসজাত
২ ছেলেকে আদরযত্নে বড় করার পর বাবা জানতে পারলেন ২ সন্তানের কেউই তাঁর সন্তান নয়। ২ সন্তান ২ ভিন্ন ব্যক্তির ঔরসজাত।

এক ছেলের বয়স ২২ বছর, অন্য ছেলের ১১। এত বছর ধরে ২ সন্তানকে যত্নে বড় করার পর বাবা জানতে পারলেন ২ সন্তানের কেউই তাঁর সন্তান নয়। তারা আসলে ২ জন ভিন্ন ব্যক্তির সন্তান। এতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন তিনি।
তাঁর বিয়ে হয়েছিল ২০০২ সালে। ২০০৪ সালে তাঁর স্ত্রীর গর্ভে জন্ম নেয় এক শিশুপুত্র। বাবা হিসাবে ওই ব্যক্তির আনন্দ হয়। সন্তানকে যত্নে বড় করতে থাকেন। ২০০৪ সালে ফের তাঁর স্ত্রী এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। তাকেও যত্নে বড় করলেও স্বামী স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছিল।
ফলে ২০২২ সালে তাঁদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়। ওই ব্যক্তির কাছ থেকে খোরপোষ ও একটি বাড়ি নিয়ে নেন স্ত্রী। কিছুদিন আগে ওই ব্যক্তি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বিয়ে করে নতুন স্ত্রীকে নিয়ে তাঁর বাড়িতে ফেরার পর তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী ও ২ পুত্র এসে হাজির হয়।
ওই বাড়িও তাদের চাই বলে জানায়। ঝগড়া বাঁধে। ২২ বছরের বড় ছেলে ঝগড়ার মধ্যেই বলেন ওই ব্যক্তির তাঁর বাবা নন। সন্দেহ হয় ওই ব্যক্তির। তিনি ওই বড় ছেলের টুথব্রাশ সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষা করান।
আর তাতেই তিনি জানতে পারেন বিয়ের ২ বছরের মাথায় স্ত্রীর গর্ভে জন্ম নেওয়া শিশু তাঁর সন্তান নন। তিনি তাঁদের গ্রামের প্রধানের ঔরসজাত।
এরপর ওই ব্যক্তি তাঁর দ্বিতীয় সন্তানের ডিএনএ পরীক্ষা করান। এবারও চমক। দ্বিতীয় সন্তানও তাঁর নয়। সেটি তাঁর এক তুতোভাইয়ের বলে জানতে পারেন ওই ব্যক্তি।
এরপর আর অপেক্ষা না করে বিধ্বস্ত মনে আদালতে হাজির হন ওই ব্যক্তি। মানসিক যন্ত্রণা দেওয়ার জন্য ক্ষতিপূরণ ও ২ সন্তান তাঁর না হওয়া সত্ত্বেও তাদের ভরণপোষণের জন্য যে অর্থ তাঁর প্রথম স্ত্রী নিয়েছিলেন তা ফেরত চান।
২টি অঙ্ক মিলিয়ে মোটা অর্থ প্রথম স্ত্রীর কাছে চেয়েছেন ওই ব্যক্তি। ঘটনাটি চিনে রীতিমত হইচই ফেলে দিয়েছে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট সংবাদমাধ্যমে খবরটি প্রকাশিত হওয়ার পর অনেক সংবাদমাধ্যমেই প্রকাশিত এই খবরটি আলোড়ন ফেলে দেয়।