কথিত আছে একসময় চৈতন্য মহাপ্রভু তাঁর ভক্তদের সঙ্গে পানিহাটির গঙ্গার ধারে পৌঁছন। সেখানে একটি বট গাছের তলায় বসে তিনি ভক্তদের সঙ্গে কথা বলছিলেন।
তখনই তাঁর দৃষ্টি যায় দূরে নিজেকে কার্যত লুকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একজনের দিকে। মহাপ্রভু তাঁকে ডেকে নেন নিজের কাছে। তারপর তাঁকে আশির্বাদ করে সমবেত প্রতিটি ভক্তকে চিঁড়ে দই খাওয়ানোর নির্দেশ দেন।
যাঁকে সেদিন ওই নির্দেশ মহাপ্রভু দিয়েছিলেন তিনি ছিলেন রঘুনাথ দাস গোস্বামী। যিনি ছিলেন এক ধনী জমিদারের একমাত্র বংশধর। কিন্তু আর্থিক প্রতিপত্তি নিয়ে তাঁর কোনও আসক্তি ছিলনা। বরং তাঁকে আধ্যাত্ম্য চেতনা আকৃষ্ট করত।
তাঁকেই পানিহাটির গঙ্গার ধারে বসে এই দই চিঁড়ে সকলকে খাওয়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন মহাপ্রভু। তা পালনও করেন তিনি। সেই থেকেই শুরু হয় পানিহাটির বিখ্যাত চিঁড়ে দই উৎসব। যাকে অনেকে দণ্ড মহোৎসবও বলেন। মহোৎসবতলা ঘাটে এই উৎসব প্রতিবছর পালিত হয়। দই চিঁড়ে মাখা এই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ।
এই দই চিঁড়ে উৎসব এবার ৫১০ বছরে পদার্পণ করল। ৫০০ বছর পার করেও এই উৎসবে এতটুকু ভাটা পড়েনি। আজও এই উৎসবকে কেন্দ্র করে পানিহাটির গঙ্গার ধারে ভিড় জমে ভক্তদের। কয়েক বছর আগে এই দই চিঁড়ে উৎসবে ভিড়ের কারণে ঘটা অপ্রীতিকর ঘটনার জেরে এবারও প্রশাসনের তরফে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।