Feature

রাজার খেয়াল বলে কথা, ভারতেই ছিল ব্যক্তিগত রেলস্টেশন, নিজস্ব রেলগাড়ি

বড়লোকদের খেয়ালের কোনও শেষ নেই। রাজা হলে তো কথাই নেই। এমনই একজন তো নিজের জন্য একটি ব্যক্তিগত রেলস্টেশনই বানিয়ে ফেলেছিলেন। কিনে ফেলেছিলেন নিজস্ব ট্রেন।

ছোটবেলা থেকেই রূপকথার গল্পে রাজা রানিদের অবাধ বিচরণ। তাঁদের বিশালাকার প্রাসাদ থেকে শুরু করে বহুমূল্য পোশাক, গয়না দেখে গায়ে কাঁটা দেয়। তাঁদের সিন্দুকে থাকত হিরে জহরতের অঢেল সম্ভার। থালা সাজানো হত বিভিন্ন সুস্বাদু খাবার দিয়ে।

রূপকথার রাজ্য শুধু গল্পেই থাকেনা। কিছু ক্ষেত্রে বাস্তবেও তার অস্তিত্ব রয়েছে। যেখানে বিলাসিতার চরম উদাহরণ হিসাবে এক নবাব কয়েক কোটি টাকার বিনিময়ে ব্যক্তিগত রেলস্টেশন অবধি বানিয়ে ফেলেছিলেন। সঙ্গে ৪ কামরার একটি ট্রেনও ছিল তাঁর।

উত্তরপ্রদেশের রামপুরের নবাব হামিদ আলি খানের বিলাসবহুল জীবনযাপন এখনও মানুষকে অবাক করে। বিলাস ব্যসনের চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত স্বরূপ ১৯২৫ সালে তিনি নিজের প্রাসাদের ভিতরেই ১১৩ কোটি টাকার বিনিময়ে একটি ব্যক্তিগত রেলস্টেশন তৈরি করান।

রেলস্টেশনটি ছাড়াও ৪ কামরার একটি রাজকীয় ট্রেন এবং ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথও তৈরি করা হয়। কামরাগুলির মেঝেতে পাতা থাকত পার্সি গালিচা। জানালায় ঝুলত সূক্ষ্ম কাজ করা পর্দা। ভিতরের আসবাবগুলি তৈরি হয়েছিল বহুমূল্য সেগুন কাঠ দিয়ে।

প্রতিটা কামরায় ঝুলত অসাধারণ একেকটি ঝাড় লণ্ঠন। মেঘলা দিনেও সেগুলি থেকে আলো ঠিকরে বার হত। ট্রেনটি কার্যত চলমান এক প্রাসাদ ছিল। রাজা সবসময় পারিষদদের সঙ্গে নিয়ে ঘুরতেন। তাই ট্রেনের ভিতরে শোয়ার ঘর থেকে রান্নাঘর, কর্মচারিদের জন্য আলাদা ঘর এবং আমোদপ্রমোদের ব্যবস্থা ছিল।

মানবিকতার দৃষ্টান্ত হিসাবে ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় নবাব পাকিস্তানে থাকা অনেক পরিবারকে সুরক্ষিত ভাবে দেশে ফেরাতে ট্রেনটিকে কাজে লাগিয়েছিলেন। ১৯৫৪ সালে ভারত সরকারের হাতে ২টি কামরা সমর্পণ করে বাকি ৩টি নবাব নিজের কাছে রাখেন।

তাঁর জীবনাবসানের সঙ্গে রাজকীয় ট্রেনটির যাত্রা শেষ হয়। ধুলো জমে স্টেশনটিতেও। বর্তমানে নবাবের প্রাসাদটি দেশের অন্যতম একটি মূল্যবান গ্রন্থাগারে পরিণত হয়েছে।

Show Full Article

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *