Sports

রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে ভারত, ওয়াংখেড়ের মাঠে বাস্তব পর্দার লগান

২০ ওভারে ২৫৩ রান করার পরেও যে কোনও টি২০ ম্যাচ এতটা রুদ্ধশ্বাস হতে পারে তা এদিন দেখল গোটা দেশ।

মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে টি২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড টস জিতে প্রথমে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠায়। ব্যাট করতে নেমে অভিষেকের উইকেট প্রথমে হারালেও ফের এদিন সঞ্জু স্যামসন অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন। সঞ্জু প্রথমেই একটা ক্যাচ তোলেন। ইংল্যান্ড যা ফস্কানোর পর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে।

৪ আর ৬-এর বন্যা বইতে থাকে মাঠে। যোগ্য সঙ্গত দিতে থাকেন ঈশান কিষাণ। এদিন শুরু থেকে রান রেটকে পর্বতের শিখরে রেখে দিয়েছিল ভারত। আর তা কখনও পড়তে দেয়নি।

মাঝে ২টি ওভারের মত রান একটু পড়ে যায়। কিন্তু তা আবার অন্য ওভারে ইংল্যান্ডের বোলারদের বল সংহার করে তুলে নেন ভারতীয় ব্যাটাররা। ইংল্যান্ডের উইল জ্যাকস এবং আদিল রশিদ কিছুটা ভারতের রানের ঝড় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। এই ২ বোলার ২টি করে উইকেটও পান।

এদিন ফের সঞ্জুর ব্যাট কথা বলেছে। তিনি ৮৯ রান করেন ৪২ বলে। শিবম দুবেও ২৫ বলে ৪৩ রান করেন। তিলক, হার্দিকও ভাল রান যোগ করেন। সব শেষে ২৫৩ রান তোলে ভারত। টি২০ ম্যাচে এই পাহাড় প্রমাণ রান তাড়া করা অসম্ভব বলেই ধরে নিয়েছিলেন ক্রিকেট সমর্থক থেকে ক্রিকেট বোদ্ধা সকলেই।

ইংল্যান্ড ২৫৪ রান করলে জিতবে এই শর্তে ব্যাট করতে নেমে ৩৮ রানের মধ্যেই ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায়। তারপরই দলের হাল ধরেন ২২ বছরের তরুণ জ্যাকব বেথেল। জ্যাকব বেথেলের ব্যাট যেভাবে আগুন ঝরাতে থাকে তাতে ক্রমে ভারতীয় সমর্থকদের খুশি মনে কালো মেঘ ছাইতে শুরু করে। একটা অশনিসংকেত কাজ করছিল।

যেভাবে জ্যাকব ব্যাট করছিলেন তাতে ২৫৪ রানও কম বলে মনে হতে শুরু করেছিল অনেকের। ইংল্যান্ডের অন্য ব্যাটাররাও যোগ্য সঙ্গত দিতে থাকেন। ফলে প্রয়োজনীয় রান রেটে কোনও সময়ই পিছিয়ে পড়তে দেখা যায়নি ইংল্যান্ডকে।

ভারতের রান তোলার গতি এবং ইংল্যান্ডের রান তোলার গতিতে ফারাক প্রায় ছিলই না। যখন অনেক ভারতীয় সমর্থক মনে মনে ভাবছিলেন এ ম্যাচ হারলেও হারতে পারেন, সেখানেই জ্বলে ওঠেন বুমরাহ। তিনি যে কেন এখনও ব্যাটারদের আতঙ্ক তা এদিন ওয়াংখেড়ের ব্যাটার সহযোগী পিচেও দেখিয়ে দিলেন বুমরাহ।

১৬ এবং ১৮ তম ওভারে ইংল্যান্ডের প্রয়োজনীয় রান তোলার গতি আটকে দেয় তাঁর ইয়র্কার। এরপর ১৯ তম ওভারে ম্যাচ তখন রুদ্ধশ্বাস অবস্থায়। হৃৎস্পন্দনের গতি সীমা ছাড়াচ্ছে। এই সময় নিজের সেরাটা মাঠে ঢেলে দেন হার্দিক পাণ্ডিয়া।

বুমরাহ এবং হার্দিক প্রয়োজনীয় রানের গতি আটকে দেওয়ার পর শেষ ওভারে ৩০ রান দরকার ছিল ইংল্যান্ডের। দুবে বল করতে আসেন। আর সেই রুদ্ধশ্বাস ওভারে বেথেল রান আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন ১০৫ রান করে।

এই উইকেট যেন ভারতীয় সমর্থকদের মনে শান্তি ফিরিয়ে দেয়। এরপর জোফ্রা আর্চার ৩ বলে ছক্কা হাঁকালেও প্রয়োজনীয় রান আর ছুঁতে পারেনি ইংল্যান্ড। ৭ রানে পরাজিত হয় তারা। এক অসামান্য সন্ধে উপভোগ করেন ওয়াংখেড়ের দর্শকেরা। ম্যাচের সেরা হন সঞ্জু স্যামসন।

ফাইনালে ভারতের সামনে নিউজিল্যান্ড। খেলা হবে রবিবার আমেদাবাদে। তবে এদিন যে হৃদয় স্তব্ধ করা ম্যাচ দেখলেন সকলে তা পর্দার আমির খানের লগানকে মনে করিয়ে দিল। পর্দার সেই টান টান উত্তেজনা এদিন ব্রিটিশদের হারিয়ে বাস্তবের মাটিতে ফিরল ওয়াংখেড়েতে।

Show Full Article

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *