১৯৯৮ সালে প্রথম বিশ্বকাপের মুখ দেখেছে দেশটা। প্রথমবারেই চমকে গিয়েছিল বিশ্ব। লাল-সাদা ঝড়ে সেবার বেসামাল হয়ে গিয়েছিল নামীদামী দলও। প্রথম আত্মপ্রকাশেই ৩ নম্বর স্থান দখল করে যুগোস্লাভিয়া ভাঙা এই ছোট্ট দেশ। এরপর অবশ্য ২০১০ ছাড়া সব বিশ্বকাপেই খেলার সুযোগ আদায় করে নিয়েছে তারা। কিন্তু আশানুরূপ ফল করতে পারেনি। ২০১৮-তে এসে পারল। এবার গ্রুপ লিগ থেকেই ক্রোয়েশিয়া বুঝিয়ে দিয়েছিল তথাকথিত প্রথমসারির দেশের তালিকায় তাদের না রাখা হলেও তারা কিন্তু এবার জমি ছাড়তে আসেনি। তৈরি দলটা যত এগিয়েছে ততই পরিস্কার হয়েছে ক্রোয়েশিয়া এবার কিছু একটা করে দেখাবে। দেখালও। সেমিফাইনালের গণ্ডি পার করে পৌঁছে গেল বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্যায়ে। ফাইনালে। সেখানে তারা মুখোমুখি হবে ফ্রান্সের। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মত দলকে হারিয়ে ক্রোয়েশিয়া কিন্তু ইতিমধ্যেই কাপ জেতার স্বপ্নে বিভোর।
এদিন খেলা শুরুর পর কিন্তু মাঠে হ্যারি কেনের ইংল্যান্ডের দাপট ছিল একতরফা। ইংল্যান্ডের বল দখলের খেলা এবং আক্রমণ দুটোতেই ক্রোয়েশিয়া মাত খাচ্ছিল। খেলার ঠিক ৫ মিনিটের মাথায় ক্রোয়েশিয়ার পেনাল্টি বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া একটি ফ্রি কিকে কিরান ট্রিপিয়ারের ছবির মত শট মানব প্রাচীরের মাথার ওপর দিয়ে কোণা করে তিরের গতিতে ঢুকে পড়ে ক্রোয়েশিয়ার গোলে। এ শট আটকানো কোনও গোলরক্ষকের পক্ষেই অসম্ভব। গোলরক্ষক ঝাঁপ দিলেও বল সহজেই ঢুকল গোলে। শুরুতেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। তারপরও খেলায় কিন্তু আধিপত্য একাই ধরে রেখেছিল ইংল্যান্ড। প্রথম ২৫ মিনিটে ইংল্যান্ডের গোলমুখে হানাই দিতে পারেনি ক্রোয়েশিয়া। বরং এরমধ্যে ২টি সহজ সুযোগ নষ্ট করে ইংল্যান্ড। না হলে তারা ৩-০-তেও এগিয়ে যেতে পারত। যারমধ্যে একটি মিস করেন স্বয়ং হ্যারি কেন। শট বারে গেলে ফেরে। ৩০ মিনিটের মাথায় ইংল্যান্ডের গোলে প্রথম একটি দুরন্ত শট নেয় ক্রোয়েশিয়া। যা গোলরক্ষক আটকে দেন। এরপর প্রায় গোল হয় এমন সুযোগ তৈরি না হলেও ২ দলই জমাট ফুটবল খেলা শুরু করে। শুরু হয় সমানে সমানে টক্কর।
দ্বিতীয়ার্ধের ৬৭ মিনিটের মাথায় ইভান পেরিসিচ একটি মাপা ক্রস পান ক্রোয়েশিয়ার গোলমুখে। সাধারণত ক্রসে হেডই বেশি দেখা যায়। এক্ষেত্রে ভাসানো বলটা যে তিনি মাথায় পাবেন না তা বুঝতে পেরে বাঁ পা বাড়িয়ে দেন পেরিসিচ। আর সেই পায়ের অব্যর্থ ছোঁয়ায় বল ঢুকে যায় ইংল্যান্ডের গোলে। ক্রোয়েশিয়া সমতা ফেরায়। ৭১ মিনিটের মাথায় ফের গোল পেত ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু বল সাইডবারে লেগে ফিরে আসে। ৮২ মিনিটের মাথায় আসে ফের সুযোগ। কিন্তু ক্রোয়েশিয়ার সেই শট আটকে দেন ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক। এবারের বিশ্বকাপে সেট পিসে সবচেয়ে বেশি গোল করেছে ইংল্যান্ডই। অথচ ইনজুরি টাইমে একটি সেট পিস মুভমেন্টে সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় ইংল্যান্ড। খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ে কিন্তু মাঠে ক্রোয়েশিয়ার দাপট একটু বেশিই ছিল। বারবার আক্রমণ হানছিল তারা। ১০৫ মিনিটে একটি গোল ইংল্যান্ডের গোলরক্ষকের তৎপরতায় বেঁচে যায়। কিন্তু ১০৮ মিনিটের মাথায় আর সেই কাজ করে উঠতে পারেননি গোলরক্ষক। ইংল্যান্ডের গোলমুখে ব্যাক হেড থেকে বল পান মারিও মানজুকিচ। সেই বল শরীরের মোচড়ে পায়ের কাছে নিয়ে সপাটে শট করেন গোলে। এক্ষেত্রে গোলরক্ষক হার মানেন। ক্রোয়েশিয়া এগিয়ে যায় ২-১ ব্যবধানে। যে দলটা খেলার শুরুতেই গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়েছিল, তারা এক অবিশ্বাস্য ঘুরে দাঁড়ানোর খেলা উপহার দেয় ফুটবল বিশ্বকে। ১১৫ মিনিটের মাথায় ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ পায় ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু ফের গোলরক্ষকের বুদ্ধিমত্তায় গোল বাঁচে। খেলার শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত ইংল্যান্ড আর খেলায় ফেরার সুযোগ পায়নি।
খেলা শেষে ক্রোয়েশিয়ার খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাস ছিল বাঁধভাঙা। হবে নাই বা কেন? যে দলটা বিশ্বকাপ খেলতেই এসেছে ১৯৯৮ সালে, তারা ২০১৮ সালে একের পর এক তথাকথিত ফুটবল দৈত্যদের হারিয়ে ফাইনালে। এ কি কম কথা! গ্যালারিতেও তখন লাল-সাদা জার্সি গায়ে ক্রোয়েশিয়ার সমর্থকরা বুঝেই উঠতে পারছিলেননা, কি করলে আনন্দটা পুরো করা যায়! কাপ থেকে ক্রোয়েশিয়া এখন একটা ম্যাচ দূরে। সামনে ফ্রান্স। তাদের হারাতে পারলেই বিশ্ব ফুটবলের মহাশক্তিদের তালিকায় ঢুকে পড়বে আর একটা দল। ক্রোয়েশিয়া।
যে বয়স পর্যন্ত বাঁচলে মানুষ বাড়িতেও অতি যত্নে দিন কাটান, সেখানে ১০৩ বছরের এক বৃদ্ধা…
তিনি পুরো বিষয়টা পরিস্কার করেছেন তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায়। তিনি একজন ফটোগ্রাফার। দেশের গোলাপি শহরে যাঁর…
পিঙ্ক মুন। মানে গোলাপি চাঁদ। এই গোলাপি চাঁদ দেখা দেবে আকাশে। দেখা যাবে এক মহাজাগতিক…
একটি বেসরকারি বাসের গায়ে দাউদের নামে একাধিক স্লোগান লেখা। এটা জানার পরই যাত্রীদের নামিয়ে বাসটিকে…
মেষ রাশির আজকের দিনটা কেমন কাটতে চলেছে, রাশিফল ও দৈনিক সময়সূচী অনুযায়ী প্ল্যানিং করুন আজ…
বৃষ রাশির আজকের দিনটা কেমন কাটতে চলেছে, রাশিফল ও দৈনিক সময়সূচী অনুযায়ী প্ল্যানিং করুন আজ…