Wednesday , November 14 2018

২০১৮ বছরটা কেমন যাবে ও প্রতিকার – শিবশংকর ভারতী

Bengali Horoscope

যে কোনও মানুষের ব্যক্তিগত জন্মকুণ্ডলীর সার্বিক গ্রহাবস্থানের ওপর নির্ভর করে সুখদুঃখ বা হাসি কান্না।মানসিক শান্তি অশান্তি ইত্যাদি বিষয়গুলি শুধুমাত্র রাশিনির্ভর নয়, সামগ্রিকভাবে গ্রহাবস্থানভিত্তিক।ফলে,ফলের হেরফের হওয়াটা স্বাভাবিক।


এখানে রাশির ওপর ভিত্তি করে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং পরে ভাগ্যফল নিয়ে যা লেখা তা অভিজ্ঞতায় দেখা একটা আভাস মাত্র।এটাই বাস্তব সত্য বলে ধরে নিয়ে চলাটা কোনও কাজের কথা নয়, চলার কারণও আছে বলে মনে হয় না।

যাই হোক, ‘মানুষের মনের পুষ্টি আর বৃদ্ধির অগ্রগতিতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে পরিবেশগত শিক্ষা’,একথা বলেছেন ফ্রয়েড। একই সঙ্গে চরিত্রের সংজ্ঞায় পরিবেশের প্রভাব যে কতখানি তা পাওয়া যায় ফ্রয়েডেরই সহকর্মী ও শিষ্য আলফ্রেড অ্যাডলারের কথায়।তিনি চরিত্রের মনোজ্ঞ সংজ্ঞায় বলেছেন, ‘চরিত্র একটি মানসিক সংস্থা।কোনও ব্যক্তি যে পরিবেশের মধ্যে চলাফেরা করে সেই পরিবেশের সঙ্গে সে যে গুণ ও প্রকৃতি নিয়ে আদানপ্রদান করে তাই-ই হল তার চরিত্র।’

টমাস ভ্যান ডি ভেলডি বলেছেন, ‘কোনও মানুষের সেই গুণসমষ্টিই হল তার চরিত্র যেগুলি অন্য লোকের সঙ্গে ব্যবহারে তাদের চোখে ধরা পড়ে এবং যেগুলি অন্য লোক হতে তাকে পৃথক করে দেখায় অর্থাৎ যে গুণগুলি ব্যক্তির আচারে,আচরণে প্রতিক্রিয়ায় ও প্রকৃতিতে পরিস্ফুট হয়ে ওঠে।’

অনেকের রাশিফল মেলে, অনেকের মেলে না। কারণ, তিনটে নক্ষত্র নিয়ে হয় একটা রাশি। রাশি এক হলেও তিনটে নক্ষত্রের ফল আলাদা। উদাহরণে বিষয়টা পরিস্কার হবে। তুলা রাশি চিত্রা স্বাতী ও বিশাখা নক্ষত্র নিয়ে। ধরুন আগামী এক বছর চিত্রার আইন সংক্রান্ত ঝামেলা। স্বাতীর ভ্রমণ ও কর্মোন্নতি, বিশাখার আর্থিক উন্নতি ও গৃহে শুভ কর্মানুষ্ঠান যোগ। পরিসরের কথা ভেবে বিশাখার ফলটা লেখা হল। চিত্রার লেখা হল না। সে আইনি ঝামেলায় জড়িয়ে ভুগতে থাকল। ফলে সে বলবে ফালতু। বিশাখার জাতকরা বলবে দারুণ মিলেছে। এছাড়াও ফলাফলের তারতম্য হয় ব্যক্তিগত জন্মকুণ্ডলীর সার্বিক গ্রহাবস্থানের শুভাশুভের উপরে।

আমার জ্যোতিষশাস্ত্রের শিক্ষাগুরু শ্রীশুকদেব গোস্বামীর ‘নরনারীর যৌন চরিত্রে রাশি, লগ্নের প্রভাব ও যোটক বিচার’ গ্রন্থের সাহায্য নিয়ে এই অংশটুকু লেখা হয়েছে। এর সঙ্গে সংযোজন করা হয়েছে নিজের পেশাগত জীবনের বেশ কিছু অভিজ্ঞতার কথা। লেখক চিরকৃতজ্ঞ হয়ে রইল উক্ত গ্রন্থের লেখক ও প্রকাশকের কাছে।

মেষ রাশির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও মানসিকতা :

এই রাশির মধ্যে রয়েছে বীরধর্মের প্রকাশ ও পুরুষোচিত সাহসিকতা। আত্মোপলব্ধির কার্যকারণ শক্তিও মেষ রাশিতে ভরপুর। পরাজিত হয়ে ফিরে আসার মানসিকতা বা হীন প্রবৃত্তি নেই। এই রাশির জাতক জাতিকারা তেজস্বী হলেও প্রকৃতিতে স্বার্থপরও বটে।

তমোগুণের কার শনিদেবের নীচস্থান মেষ রাশি। দুঃখবাদের একটি বিরাটতম অধ্যায় এই রাশি। ফলে নীচাশয়তা, আর্থিক দুর্ভাবনা, ক্ষোভ দুঃখ, আলস্য ও অহমিকার উৎপত্তি ও স্থিতি মেষ রাশিতেই নিরূপিত হয়। যারজন্য এদের চরিত্রে সৃষ্টির সঙ্গে ধ্বংসের, দুঃখের সঙ্গে আনন্দের, উচ্চশায়তার সঙ্গে নীচাশয়তার এক অদ্ভুত মিলন বৈষম্য দেখা যায়। নিজের মতে চলার প্রবণতা বেশি। অশান্তির ভয়ে অনেকক্ষেত্রে অনিচ্ছায় মেনে নেওয়া।

মেষ রাশির জাতক বা জাতিকাদের মন ও মানসিকতা যত উন্নতই হোক না কেন, তমোগুণী শনির নীচস্থানের কারণে এ প্রকাশ একেবারেই বাহ্যিক, আন্তরিক নয়, অন্তরেরও নয়। স্বভাবে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে যদি নিজের কিংবা পরিবারের কারও স্বার্থে আঘাত লাগে। কথাবার্তায়, আনন্দ উল্লাসের মধ্যে দিয়ে একসময় অজান্তেই তার এই চরিত্র বিকশিত হয়ে পড়ে ঘনিষ্ঠ প্রিয়জনদের কাছে। যথা সময়ে ফাটল ধরে যায় প্রীতির সম্পর্কে।

যৌবনের প্রথম অবস্থায় স্বাস্থ্যের বিষয়ে এরা যথেষ্ট যত্নশীল। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সে চেষ্টায় ভাঁটা পড়ে। সম্পূর্ণ যৌবনকে রাজসিকভাবের মধ্যে দিয়ে পরিচালিত করতে চায় আনন্দ নিয়ে উল্লসিত মন কিন্তু এমনই এই রাশির জাতক জাতিকাদের কপাল, জীবন সংগ্রামের বলিষ্ঠ পথকেই শেষ পর্যন্ত বরণ করে নিতে হয় সাগ্রহে।


সংসারজীবনে ভ্রাতাভগ্নীরা প্রায়ই এদের আপন হয় না। এরা প্রতারিতও হয় ক্ষেত্রবিশেষে। শত্রুদের মধ্যে ভ্রাতা বা ভগ্নীদের স্থান প্রথম। এই রাশির জাতক জাতিকাদের মধ্যে প্রতিশোধপরায়ণ মনোভাবও বর্তমান থাকে। যত অর্থই ব্যয় হোক না কেন আপত্তি নেই, সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য উদগ্রীব থাকে, বিদ্যালাভ করাতে প্রয়াসী হয় যথেষ্ট।

জাতকদের পত্নী, জাতিকাদের স্বামী মনের মতো হয় না। বিবাহের ক্ষেত্রে পাত্র বা পাত্রী নির্বাচনে প্রায়ই ভুল পদক্ষেপে সারাটা জীবন এরা আফসোস করেই কাটায়।

মেষ রাশিতে রয়েছে সৃষ্টির এক অনাবিল আনন্দ, ভরপুর ভোগের লিপ্সা কিন্তু যৌনজীবন হয় বিষাদাচ্ছন্ন।

বছরটা কেমন যাবে :

গত বছরটা যা গেছে তার তুলনায় এ বছর অনেকটাই ভালোর দিকে যাবে। দেহ ও মনের অস্বস্তি অনেকটা কেটে ফিরে আসবে স্বস্তি। কর্মপ্রার্থীদের কর্মলাভের পক্ষে বছরটা অনুকূলে। কর্মজীবন ও অর্থভাগ্যের কমবেশি উন্নতি হবে। যারা পেশা বা ব্যবসায় আছেন তাদের কর্মক্ষেত্রে যোগাযোগের পথ প্রসারিত হবে। আয় বাড়বে। তবে ব্যয়চাপ থাকলেও সমতা রক্ষা হবে।

পারিবারিক ক্ষেত্রে সারা বছর একটা না একটা লেগে থাকবে। মাঝে মধ্যে বিরক্তিতে মনটা ভরে উঠবে। না চাইতেই কিছু অর্থ এসে যাবে। কোনও না কোনও আত্মীয়ের গৃহে একাধিকবার শুভ কর্মানুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন। নিজেদের বাড়িতেও কোনও মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান হবে। অবিবাহিতদের অনেকের বিবাহের সম্ভাবনা।

প্রতিষ্ঠা জীবনে শত্রুতা করে কেউ ক্ষতিসাধনে সমর্থ হবে। এবছর বেশ কয়েকবার কোথাও না কোথাও বেড়াতে যাবেন। স্বাস্থ্য মোটামুটি ভালোই থাকবে। কোনও বিশেষ গুণ কিংবা কাজের জন্য প্রশংসিত হবেন। বিদ্যার্থীদের পক্ষে বছর অনেকটাই শুভত্বের দিকে থাকবে।

জাতক জাতিকাদের ধর্মের প্রতি আকর্ষণ বাড়বে। পূর্বের তুলনায় বিভিন্ন দেবস্থানে যাওয়াটা বেড়ে যাবে। অদীক্ষিতদের অনেকেরই দীক্ষালাভ হবে। বিভিন্ন তীর্থভ্রমণ হবে। এবছর প্রাপ্ত বস্তুর রং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাদা ও ঘিয়ে হবে।

মেষ রাশির প্রেমপ্রীতির বাজারটা জমজমাট হয়ে উঠবে। বিবাহিতদের নতুন করে প্রেমে পড়ার সম্ভাবনা। নতুন প্রেমে ইচ্ছুকদের সময়টা বছরভর থাকবে অনুকূলে। প্রেমিক প্রেমিকাদের বছরের অধিকাংশ দিনগুলো কাটবে মানসিক আনন্দে।

বছরের মধ্যে বৈশাখ ও কার্তিক এই দুটো মাস দেহ ও মনকে কোনও না কোনও ভাবে বিব্রত করবে। অস্থিরতা বাড়বে। নিকট ভ্রমণ হবে।

মেষলগ্নের জাতক জাতিকাদের পারিবারিক অস্বস্তি একটা থাকবে তবে আগের তুলনায় দেহ ও মনের স্বস্তি অনেকটা বাড়বে।

কি করলে একটু ভালো থাকবেন :

প্রতি শনি ও মঙ্গলবার যে কোনও হনুমান মন্দিরে নিখুঁত যে কোনও একটা সুমিষ্ট ফল আর যে কোনও রঙের সুগন্ধি ফুল দিয়ে প্রণাম করে আসুন। যা মন চায় দক্ষিণা দেবেন। সারা বছর কাজটা করতে পারলে সার্বিক অনেক বাধা বিপত্তির হাত থেকে রক্ষা পাবেন নিশ্চিত। উপবাস কিংবা নিরামিষ খাওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।

কি রঙের পোশাক পরবেন :

সারা বছর ভালো থাকতে যতটা সম্ভব হালকা লাল, গোলাপি, হালকা নীল বা আকাশী রঙের পোশাক ব্যবহার করতে পারেন। সাদাও চলবে। যে ঘর বেশি ব্যবহার করেন সে ঘরের বা বাড়ির রং উক্ত রঙের যে কোনও একটা করলে দেহ, মন সার্বিক ভালোই হবে।

বৃষ রাশির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও মানসিকতা :

এই রাশির অধিপতি গ্রহ দৈত্যগুরু শুক্রাচার্য। ভোগবাদী হলেও সত্ত্বগুণাশ্রয়ী। কামনা বাসনা পরিত্যাগ করে কখনওই বৈরাগ্যের ভিত্তি স্থাপিত হতে পারে না সংসার জীবনে। ধর্ম শুধু ত্যাগে হতে পারে না। ভোগের মধ্যে দিয়েই ত্যাগের সন্ধান। এই সত্যকেই উপলব্ধি করেছিলেন শুক্রাচার্য। কর্মযোগী শুক্র। সর্ববিধ কলাশাস্ত্রের প্রবক্তা। এই রাশির জাতক জাতিকারা ক্লীবতা পরিত্যাগ করে সংসারে কর্মকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকেন মনে প্রাণে। মানুষের দুঃখ দুর্দশা লাঘব করে অন্তরে বিমল আনন্দ সৃষ্টি করতে এদের জুড়ি নেই। কারণ মনের স্বচ্ছতা ও নির্মলভাবের ওপর এই রাশিতে শুক্রের প্রভাব বেশি থাকে বলে।


মনের উদারতা কম এমন জাতক বা জাতিকার সংখ্যা নেহাতই কম। এরা ধৈর্যশীল ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে অনেক সময় পরিচিত ও স্বজনেরা রাগি, জেদি বা একগুঁয়ে বলে মনে করে। নিজের পরিবারের লোকেদের খুব ভালবাসে। এদের মনের দরজা সব সময়ই উন্মুক্ত। মিথ্যা ছলচাতুরী প্রবঞ্চনাকে অত্যন্ত ঘৃণা করে তবে পরছিদ্রানুসন্ধানী।

এই রাশির জাতক জাতিকারা যেমন খেতে ভালোবাসে তেমন খাওয়াতেও। এদের প্রচুর বন্ধু হয় তবে টেকে কম। যারা টিকে যায়, বৃষ রাশির জাতক বা জাতিকাদের প্রতি বিশ্বাসী ও সহায়ক হয়।

জাতকদের একের পর এক নারী ভোগের কামনা যেমন প্রবল, জাতিকাদের পুরুষ ভোগের বাসনায় এতটুকুও ঘাটতি নেই। বৃষ রাশির জাতকেরা বিবাহিতজীবনে স্ত্রীর কাছ থেকে সবিশেষ তৃপ্তি পায় না। কারণ শুক্রের প্রভাবে যৌনকলাশাস্ত্র সম্বন্ধে যথেষ্ট জ্ঞান এবং রতিক্রিয়াদির রহস্য জানা থাকে বলে বিবাহিত জীবনে আত্মতৃপ্তি লাভ করে আপন কৌশলে।

বিপরীতভাবে বৃষ রাশির জাতিকাদের সঙ্গে স্বামীর সহবাস সুখ মোটেই সুখকর হয় না রতিক্রিয়াদির বিষয়ে যথেষ্ট জ্ঞান থাকে বলে। ফলে দেহসুখের জন্য বিবাহোত্তর জীবনে অন্যপুরুষে মন দেওয়াটা জাতিকাদের পক্ষে মোটেই অসম্ভব নয়। মোটের ওপর গোপন রহস্যের রসসন্ধানে সন্ধানী হওয়াটাই স্বাভাবিক। এসব সত্ত্বেও সমাজে এদের ডিভোর্সের সংখ্যা নেহাতই কম।

বছরটা কেমন যাবে :

এ বছরটা সার্বিক চাপ আর অস্থিরতার মধ্যে দিয়েই কাটবে। দেহ মন প্রায়ই বড্ড বিব্রত করবে। ব্যবসায়ীদের মাঝে মাঝে বেশ ভালো আবার কখনও কাটবে বেশ চাপের মধ্যে দিয়ে। অর্থাগমে তেমন ভাঁটা না পড়লেও দেদার খরচা বাড়বে। চাকরিজীবীদের বছর কাটবে গতানুগতিক। শত্রু বাড়বে তবে ক্ষতির ভয় নেই। কর্মপ্রার্থীদের কর্মলাভে বেশ বাধা জন্মাবে। সংসারজীবনে প্রায়ই মনের শান্তি বিঘ্নিত হয়। কোনও ঘনিষ্ঠ আত্মীয় কিংবা বন্ধুর সঙ্গে এ বছর প্রীতির সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার যোগ। স্বজনদের কারও স্বাস্থ্য মনের স্বস্তি নষ্ট করতে পারে। ধর্মের প্রতি আকর্ষণ খানিকটা বাড়লেও সাধনভজনে মনোনিবেশ হবে না। এ বছর কারণ অকারণে বিভিন্ন মন্দির বা দেবালয় ভ্রমণ, কোথাও বেড়াতে যাওয়া, নিজ কিংবা কোনও নিকট আত্মীয়ের গৃহে একাধিকবার শুভ কর্মানুষ্ঠান যোগ। কোনও ইতিহাস বিজড়িত ক্ষেত্রে বেড়াতে গিয়ে পা মচকানোর সম্ভাবনা। দীক্ষার পরিকল্পনায় বাধা পড়তে পারে।

প্রেম প্রীতির ক্ষেত্রে বছরের অধিকাংশ দিনগুলো কাটবে অভিমানজনিত অশান্তিতে। এ বছর মাঝে মাঝেই নিকট ভ্রমণে ঘুরতে বেরিয়ে পৌঁছে যাবেন কোনও প্রাচীন দেবীমন্দিরে। নতুন প্রেমে ইচ্ছুকদের প্রেমপ্রীতির ক্ষেত্রে সময়টা অসফলতার সূচক।

বৃষলগ্নের জাতক জাতিকাদের মানসিক চাপ অস্বস্তি একটা থাকবে, তবে স্বাস্থ্যের পক্ষে সময়টা অনেক স্বস্তি দেবে। যে কোনও ভাবে দেহে আঘাত যোগ বর্তমান।

বৃষ রাশির ক্ষেত্রে জ্যৈষ্ঠ ও অগ্রহায়ণ মাসটি কাটবে নানান অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্যে দিয়ে। কারও সঙ্গে মতবিরোধজনিত অশান্তি, স্বাস্থ্যের আমেজ নষ্ট, উটকো ঝামেলায় জড়ানো, অকারণ ব্যয় মনকে বিব্রত করবে।

কি করলে একটু ভালো থাকবেন :

নৃসিংহনাথের ফটো ঠাকুরের সিংহাসনে রাখুন যে কোনও বৃহস্পতিবার। যেদিন রাখবেন সেদিন থেকে প্রতিদিন স্নানের পর দুটো ধূপকাঠি দিয়ে আরতি করে স্পর্শ প্রণাম করবেন তিনবার। তারপর বোঁটাসমেত একটা তুলসী নৃসিংহনাথের চরণে স্পর্শ করে খেতে পারেন, রেখেও দিতে পারেন। এতে সারা বছরের অনেক দুর্ভোগ কাটবে। নিরামিষ খাওয়ার প্রয়োজন নেই।

প্রতি শনি ও মঙ্গলবার আপনার মুখের এঁটো করা খাবার সারা দিনে একবার একটু কাককে খেতে দেবেন। গোটা বছর আপনার দেহ মন সংসার ও প্রতিষ্ঠা জীবনের অনেক অসুবিধা ও ভোগান্তি বহুলাংশেই নিবৃত্তি এনে অনেক স্বস্তি দেবে।

কি রঙের পোশাক পরবেন :

বছরভর সাদা, একেবারে উজ্জ্বল হাল্কা আকাশী পোশাক চলবে। বিশেষ করে সাদা রঙ দেহ মন সংসার প্রতিষ্ঠা ও যে কোনও শুভ কর্মের ক্ষেত্রে শুভপ্রদ। প্রচেষ্টায় সাফল্য ও মানসিক আনন্দ বাড়বে। বাড়ি ঘরের রং সাদা রাখলে একই ফল হবে।


মিথুন রাশির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও মানসিকতা :

এই রাশির মধ্যে আশ্রয় করে তমোগুণ। বালকোচিত চঞ্চল স্বভাবে অপরিণত বুদ্ধির বিকাশ একদিকে, অন্যদিকে যৌবনোচিত কর্মচাঞ্চল্য, এই নিয়েই মিথুন রাশির জাতক জাতিকা। খেয়ালী কল্পনা দিয়ে অন্তরে নির্মাণ করে স্বপ্নসৌধ কিন্তু বাস্তবের নিদারুণ আঘাতে ভেঙে চুরমার হয়ে যায় সে সৌধ। ফলে জীবনে এদের সফলতা আসে খুব কম।

দুরভিসন্ধিমূলক কাজকর্ম করতে এরা আনন্দ পায় বেশি। কখনও অঢেল ব্যয় আবার কখনও কৃপণতায় একশেষ। দ্বৈতস্বভাবের এই রাশির জাতক বা জাতিকাদের এই হয়তো কাউকে ভালো লাগল, আবার কখনও হঠাৎ খারাপ লেগে নিন্দায় পঞ্চমুখ। এরা নিজেরাই বুঝে উঠতে পারে না এদের মনটা কেমন? এরা শ্রুতিধর।

মৌলিক জ্ঞানের তুলনায় পাণ্ডিত্য বেশি। এদের সঙ্গে তর্কে পেরে ওঠা বেশ কঠিন। উপস্থিত বুদ্ধিও বেশি। পরশ্রীকাতরও হয়।

এই রাশির জনপরিচিতি হয় যথেষ্ট। ভ্রাতাভগ্নীদের উপরে বিশ্বাস কম। স্বার্থসিদ্ধির জন্য পারে না এমন কোনও কাজ নেই। কাজের পরে মুখ ঘুরিয়ে চলতেও এদের জুড়ি নেই। অতিরিক্ত কথা বলা আর স্বভাবপ্রসূত মিথ্যা কথায় এদের অরুচি নেই। কোনও কিছুতেই সন্তুষ্ট নয়। এরা প্রায়ই প্রেমকে দীর্ঘস্থায়ী করে রাখতে একেবারেই সমর্থ হয় না। বিপরীত লিঙ্গের প্রতি সংশয় সন্দেহ একটা অন্তরে থেকেই যায়।

আত্মকেন্দ্রিক মনোভাবাপন্ন হয় এরা। কাজের সঙ্গে কথার সঙ্গতি প্রায়ই খুঁজে পাওয়া যায় না। জীবনে একাধিকবার প্রেমপ্রীতিতে জড়িয়ে পড়ে বিবাহের পূর্বে ও পরে। বিবাহের পর প্রথমভাগে সমুদ্র কিংবা নদী উপকণ্ঠে যৌনবিহার করে আনন্দ পায়। এদের তমোধর্মী মনের সঙ্গে রজো ধর্মের মিলন ঘটায় জাতকেরা যৌনজীবনে আত্মসুখী। এদের মধ্যে প্রকাশ পেয়ে থাকে অদ্ভুত কামকলা কুশলতা। বিপরীত লিঙ্গের কাছ থেকে প্রায়ই তেমনটা জোটে না। ফলে পুরুষেরা স্বেচ্ছায় অবৈধভাবে প্রেমাসক্ত হয়।

বিবাহিত জীবনে জাতিকাদের যৌবনের প্রথম অবস্থায় একটা ভীতি থাকে তবে সে ভয় কেটে যায় আপনা থেকেই। মিথুনরাশির জাতিকাদের স্বামী সহবাসে দেহের পরিতৃপ্তি প্রায়ই আসে না। সাংসারিক জীবনে স্বামীর স্নেহ ও ভালবাসাও বঞ্চিত হয়, ফলে এদের মন বহির্মুখী হয়ে পড়ে। অজ্ঞাতেই প্রেমে জড়িয়ে পড়ে দেহমনের পরিতৃপ্তির আশায়।

মোটের উপর এই রাশির জাতক জাতিকাদের যৌনজীবন সুখের হয় না। পুরুষেরা কথার ছলনায় বাহ্যিক কলাকুশলতায় স্ত্রীকে নিজের বশে রাখতে সমর্থ। এরা স্ত্রীকে সম্পূর্ণ বিশ্বাস করে কিন্তু বহুক্ষেত্রেই নিজে বিশ্বাসঘাতকতা করে অন্য নারীর কণ্ঠলগ্ন হতে কুণ্ঠিত হয় না। স্ত্রী সন্দেহ করলে উপস্থিত বুদ্ধি আর কথার চাতুর্যে সে সন্দেহ দূর করে নিজের হাসির মাদক মধুরিমায় স্ত্রীকে নতি স্বীকার করিয়েই ছাড়ে, অসৎ হয়েও।

বছরটা কেমন যাবে :

এ বছরটা মিথুন রাশির জাতক জাতিকার খুব একটা স্বস্তিতে কাটবে না। কখনও শরীর, কখনও মন, কখনও সংসার জীবন, একটা না একটা লেগে থাকবে। কর্মক্ষেত্রে উদ্বেগ একটা থেকে যাবে। ব্যবসায় বাধা থাকবে উন্নতিতে। চাকুরিয়াদের সময়টা গতানুগতিক। লক্ষণীয় কোনও পরিবর্তনের আশা নেই। কর্মক্ষেত্রে অশান্তি একটা থাকবে।

আত্মীয়প্রীতিতে বাধা জন্মাবে। বহুদিনের প্রীতির সম্পর্কে ফাটল ধরতে পারে। উটকো ঝামেলা আর ব্যয় বাড়বে হইহই করে। স্বাস্থ্যের কারণে কিছু অর্থ নষ্ট হবে।

গৃহে অতিথি ও বন্ধুদের অতিমাত্রায় আগমন কারণে মনটা মাঝে মধ্যেই খিঁচিয়ে থাকবে। সন্তানদের পড়াশুনায় সামান্য মতি আসবে। কর্মপ্রার্থীদের যোগাযোগ বাড়বে তবে কর্মলাভের আশা প্রায়ই বাস্তবায়িত হওয়ার কম। ধর্মের প্রতি পূর্বের তুলনায় সামান্য আকর্ষণ বাড়বে। অনেকের দীক্ষালাভ হবে। সারাবছরে বেশ কয়েকবার দেবালয় ভ্রমণ হবে। কোনও আত্মীয় কিংবা বন্ধুর গৃহে মাঙ্গলিক কর্মে অংশগ্রহণ, ভালো উপহার প্রাপ্তি, সারাবছর খানাপিনা ভালোই হবে। বিদ্যার্থীদের অস্থিরতার মধ্যেও গতবছরের তুলনায় অস্থিরতা একটু কমবে। আত্মীয়দের কারও স্বাস্থ্য আপনার মনের ওপর চাপ বাড়াতে পারে। পরিচিতদের অনেকের ভালো ব্যবহার আপনার কাছে ভালো বলে মনে হবে না।

প্রেমিক-প্রেমিকাদের সারাবছর কাটবে ভুল বোঝাবুঝি আর মানসিক অশান্তির মধ্যে দিয়ে। অনেকের ঘনিষ্ঠ প্রেমে সাময়িক বিচ্ছেদের সম্ভাবনা।

মিথুন লগ্নের জাতক জাতিকাদের দেহ মন সংসার ও অন্যান্য সার্বিক অবস্থা প্রায়ই থাকবে বিব্রতকর।

মিথুন রাশির ক্ষেত্রে আষাঢ় ও পৌষ মাসটা কাটবে নানান অশান্তি ও অস্থিরতার মধ্য দিয়ে। পারিবারিক শান্তিও বিঘ্নিত হবে।

কি করলে একটু ভালো থাকবেন :

হনুমানজির যে কোনও ফটো সংগ্রহ করে যে কোনও দিন ঠাকুরের সিংহাসনে রাখুন। প্রতিদিন স্নানের পর দুটো ধূপকাঠি দিয়ে আরতি করে একটা জবা, না পেলে যে কোনও লাল ফুল দিয়ে তিনবার স্পর্শ প্রণাম করলেই হবে। সারা বছরের অনেক অশান্তি, দুর্ভোগ কেটে যাবে। কোনও নিয়ম নেই।
প্রতি শনি ও মঙ্গলবার কুকুরকে খাসি কিংবা মুরগির মাংসের এক টুকরো খেতে দিন। সারা বছরের অনেক বাধা বিপত্তি কাটবে। মনে অনেক স্বস্তি আসবে।

কি রঙের পোশাক পরবেন :

হালকা আকাশী, হালকা সবুজ ও হালকা লাল পোশাক এই রাশির পক্ষে লাভদায়ক। সারাদিন, প্রতিদিন ব্যবহার করলে বছরের অধিকাংশ দিনই কাটবে মানসিক স্বাচ্ছন্দ্যে। অধিকাংশ কাজে আসবে সাফল্য। স্বভাবসুলভ মনের অস্থিরতা কমবে।


কর্কট রাশির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও মানসিকতা :

এই রাশির জাতক জাতিকারা জাগতিক সুখদুঃখকে কিছুতেই অস্বীকার করে না। সুখ দুঃখ দুই-ই সমানভাবে বরণ করে নেয় সাগ্রহে। এরা ভালবাসতে চায় তবে তার প্রতিদান কিছু চায় না, চায় অনাবিল আনন্দ ও যৌন আকর্ষণে বিপরীত লিঙ্গের কিঞ্চিৎ আকর্ষণ। মিশ্রভাব দেখা যায় এই রাশিতে। এদের একদিকে যেমন উদারতা, অন্যদিকে নির্দয়তাও কম নয়। রাশির ওপরে কোনও পাপগ্রহের প্রভাব থাকলে নিদারুণ হিংস্র প্রকৃতিরও হয়ে থাকে।

দাম্পত্যজীবন প্রথমে মধুর ও আনন্দময় হয়। বিবাহের কয়েক বছর পর থেকেই অশান্তির আগমনে মধুর মাধুর্যে পড়ে কালির প্রলেপ। মিষ্টি কথা ও প্রশংসায় জাতক পারে না স্ত্রীকে বশীভূত করতে। ফলে কখনও কখনও ক্রোধের মাত্রা বেড়ে প্রবল হয়। বিপরীতভাবে কর্কট রাশির জাতিকার ক্ষেত্রেও ওই কথা বলা যেতে পারে।

এই রাশির জাতক স্ত্রী, বিপরীতভাবে স্ত্রী স্বামীর থেকে মন মতো ভালোবাসা না পেলে অন্য রমণী বা পুরুষের আশ্রয় খুঁজে নিতে চেষ্টা করে। বিবাহের পূর্ব বা পরবর্তীকালে এই রাশির জাতক বা জাতিকাদের জীবনে প্রেম এলে প্রেমজীবন এরা অতিবাহিত করে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে। এদের জন্মকালীন শুক্র বলবান অবস্থায় থাকলে জাতক বিপরীতভাবে জাতিকা একে অপরের সঙ্গে কামকলায় মুগ্ধ হয়।

এই রাশির জাতক অতিরিক্ত মাত্রায় ভাবপ্রবণ। যৌনজীবনে অতিরিক্ত ভাবপ্রবণতার ফলে মিলন তৃপ্তির অভাব থাকে। এই রাশির জাতিকারাও স্বামীকে পরিপূর্ণ আনন্দদানে সক্ষম হয় না। যার জন্য এই রাশির জাতক-জাতিকারা সারাজীবন একটা দৈহিক ও মানসিক অতৃপ্তিতে ভোগে। ডিভোর্সের সংখ্যা কম তবে সাংসারিকজীবনে শান্তির অভাবটা থেকেই যায়।

বিপরীতভাবে বলা যায়, কর্কট রাশির জাতক বা জাতিকাদের মূল জন্মকুণ্ডলীতে শুক্র বলবান অবস্থায় থাকলে দাম্পত্যজীবনকে কিভাবে পরিচালনা করলে আরও সুন্দর ও মধুময় হয়, তা এরা ভালোই জানে।

বছরটা কেমন যাবে :

দেহ মন সংসারজীবন ও অন্যান্য সার্বিক অবস্থাকে বছরটা প্রায়ই বিব্রত করে রাখবে। মাঝে মধ্যে হতাশা আসবে তবে হতাশ হবেন না। এটা সাময়িক। পরে ধীরে ধীরে তা কাটিয়ে উঠবেন। আর্থিক অবস্থা মাঝে মধ্যে ভালো আবার কখনও বেশ বিব্রত করবে। এ কথা ব্যবসা বা পেশায় নিযুক্তদের ক্ষেত্রেও সমান ভাবে প্রযোজ্য। চাকরিজীবীদের কর্মক্ষেত্রে কাজের চাপ বৃদ্ধি আর মানসিক অশান্তি বাড়বে। আর্থিক অবস্থার লক্ষণীয় কোনও পরিবর্তনের আশা নেই। তবে ব্যয় বাড়বে লাগামছাড়া।

আত্মীয় ও স্বজনদের অনেকের সঙ্গেই প্রীতির সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা। ঝুঁকিপূর্ণ কাজ এড়িয়ে চলা কর্তব্য। পেশায় নিযুক্তদের বছরটা কাটবে ‘না খুব মিঠে, না খুব কড়া’। গৃহে আত্মীয় কিংবা বন্ধুদের অতিরিক্ত আগমন অশান্তি বাড়াবে। যে কোনও কারণে অপ্রত্যাশিত অর্থ ব্যয় হবে। এ বছর আত্মীয় ও বন্ধুদের বাড়ির শুভ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ, নতুন পরিচিতিতে আনন্দলাভ হবে। স্বাস্থ্য প্রায়ই মনকে বিব্রত করবে। নিকট ও দূরপাল্লার ভ্রমণযোগ। বিশ্বাস বিষয়ক কাজগুলি সম্পর্কে সতর্কতা প্রয়োজন। বিবাহিতদের প্রায়ই মন ও মতের মিলের অভাব দেখা দেবে।

প্রেমিক প্রেমিকাদের বছরটা প্রায়ই কাটবে অশান্তির মধ্য দিয়ে। মাঝে মাঝে একে অপরকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারেন। নতুন প্রেমে ইচ্ছুকদের জন্য বছরটা প্রতিকূলে।

শ্রাবণ ও মাঘ মাসে কর্কটের জাতক-জাতিকাদের সার্বিক অবস্থা কাটবে নানান অস্বস্তি আর অশান্তির মধ্য দিয়ে। কারও না কারও সঙ্গে মতবিরোধজনিত অশান্তি, দেহ মন থাকবে অস্বস্তিকর।

কি করলে একটু ভালো থাকবেন :

বাড়িতে পঞ্চনাগ বিশিষ্ট নারায়ণের ছবি থাকলে ভালো, না থাকলে সংগ্রহ করে নিন। প্রতিদিন দুটো ধূপকাঠি দিয়ে আরতি করে পরে বোঁটাসমেত একটা তুলসী নারায়ণের চরণে দিয়ে প্রণাম করুন। সারাদিনে যে কোনও কুকুরকে যে কোনও খাবার দিন। চেষ্টা করবেন রোজ দিতে। সারা বছরের অনেক দুর্গতির হাত থেকে রক্ষা পাবেন। নারায়ণ পুজোতে নিরামিষ খাওয়ার দরকার নেই।

কি রঙের পোশাক পরবেন :

কালো, খয়েরি এবং যে কোনও গাঢ় রঙের পোশাক একেবারে বর্জন করলে ভালো হয়। অন্য কোনও হালকা রঙের পোশাক চলবে। সবচেয়ে ভালো হয় সাদা আর খুব হালকা হলুদ পরলে। মিষ্টি আকাশীও পরতে পারেন। এগুলি সব সাফল্য ও আনন্দের এই রাশির পক্ষে। বাড়ির রঙের যে কোনওটা করা যেতে পারে অসুবিধা না থাকলে।


সিংহ রাশির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও মানসিকতা :

পুরাণের মতে সিংহ রাশির মঘানক্ষত্রেরকালে রাজত্ব করেছিলেন ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির। এই রাশিকে শাস্ত্রকারেরা নৃপতি বা রাজার স্থান হিসেবে বিশ্লেষণ করেছেন। যার জন্য সিংহ রাশির জাতক জাতিকাদের ব্যক্তিত্বসম্পন্ন বা প্রভাবশালী লোকেদের সান্নিধ্যে আশার ইচ্ছে থাকে। নিজেকে পাঁচজনের মধ্যে যেমন আলাদা করে রাখতে চায় তেমনই শতদোষ ত্রুটি উপেক্ষা করে আত্মীয় পরিজনদের।

কোনও না কোনওভাবে এরা গর্বিত হতে চায়। এরা অভিমানী ও উচিতবক্তা। চট করে বাইরে প্রকাশ পায় না বটে, মন এদের দয়া মায়া মমতাভরা ও কোমল। অন্যের প্রতি সহানুভূতি যথেষ্ট। এদের ন্যায্য, অপ্রিয় ও রূঢ় কথার জন্য শত্রুও কম হয় না।

এই রাশির জাতক জাতিকাদের অন্তরে বৈরাগ্যের স্থান নেই এতটুকুও। সাংসারিকজীবনে প্রতিষ্ঠার জন্য পরিশ্রম ও অদম্য নেশায় মশগুল থাকে অন্তর। পরিচালন দক্ষতার জন্য সকলকে আত্মীয়তার সূত্রে সহজেই বাঁধতে পারে কিন্তু আত্মীয়দের অধিকাংশের সঙ্গেই প্রীতির সম্পর্কে ছেদ পড়ে।

এই রাশির জাতক জাতিকারা প্রতিষ্ঠিত আত্মীয়দের নিয়ে গর্ববোধ করে। মতের বিরুদ্ধে কোনও কথা হলেই ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে বিস্ফোরণ। ভালোবাসা পাওয়ার বাসনা তীব্র, তবে তা জোটে কম। কোনও ভাবে জুটলেও হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই ষোলআনা। ফলে প্রায়ই এরা ভালোবাসা হারানোর ভয়ে কপটতার আশ্রয় নেয়।

জাতিকারা স্বামীর প্রতি এমন মধুর ব্যবহার করে যে স্বামী জাতিকাকে কোনওভাবেই অবিশ্বাস করে না। বিবাহিতজীবনে স্বামীর প্রতি ভালোবাসা ও যত্নে এতটুকুও ত্রুটি থাকে না। কিন্তু কালের এমনই বিধান, সিংহ রাশির পত্নীস্থান শনির ক্ষেত্র হওয়ায় অধিকাংশের দাম্পত্যজীবন সুখের হয় না। পত্নী আদর্শবতী হয় কিন্তু স্বামীর থেকে পরিতৃপ্ত হয় না। ঠিক একইভাবে স্বামী পরিতৃপ্ত হয় না স্ত্রীর কাছ থেকে। ফলে বিবাহোত্তর জীবন দুটি অতৃপ্ত হৃদয় হাতড়ে মরে অন্য কোথাও মন ও দেহ তৃপ্ত হওয়ার আশায়।

এই রাশির বিবাহ প্রায়ক্ষেত্রেই অন্যবর্ণে পরিচিতদের মধ্যে হয়ে থাকে।বিবাহকালীন পাত্র বা পাত্রী নির্বাচনে অসতর্ক হলে সারাটা জীবন দুঃখের শেষ থাকে না এদের।

সিংহ রাশির জাতক জাতিকাদের ভালোবাসার শক্তি জন্মগত। এতে আঘাত পেলে সিংহের মতো গর্জে ওঠে। প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে ওঠে বাক্যবাণে। সৃষ্টির বিলাসের চেয়ে মনের উন্মাদনাই বেশি। সন্তানদের সার্বিক উন্নতি ও পোষণের জন্য ব্যাকুল হয়। তাদের ওপরে স্নেহ মায়া মমতা ভালোবাসা অন্য রাশির তুলনায় বেশি সিংহ রাশির।

বছরটা কেমন যাবে :

গত দুটি বছরের তুলনায় এ বছর দেহ মন সংসার ও অন্যান্য সার্বিক চাপ বাধা আর অস্থিরতা কমবে অনেকটাই। ব্যবসায়ী ও পেশায় নিযুক্তদের যোগাযোগ যেমন বাড়বে তেমনই কমবেশি অর্থোন্নতি হবে। মোটের ওপর বছরটা বেশ উৎসাহিত করবে। যারা মাসমাইনের জাতক জাতিকারা প্রশংসিত হবেন কর্মক্ষেত্রে। সামান্য ঝুঁকি নিয়ে কাজ করার পক্ষে সময়টা অনুকূল।

অবিবাহিতদের বিবাহের ক্ষেত্রে যোগাযোগ বাড়বে। সম্ভাব্য ক্ষেত্রে অনেকের বিবাহ হয়ে যাবে। দূরে বেড়াতে যাওয়া, শত্রু দ্বারা ক্ষতি না হওয়া, অপ্রত্যাশিত কিছু অর্থ বা দ্রব্যলাভ, সুন্দর সংবাদলাভে আনন্দিত হওয়া, একাধিকবার প্রাচীন কোনও দেবালয় ভ্রমণ ইত্যাদি হবে। ব্যয়ের চাপ থাকলেও অর্থাগমে বাধা নেই। এবছর একাধিকবার আত্মীয় কিংবা পরিচিতদের মাঙ্গলিক কর্মানুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন।

কর্মপ্রার্থীদের কর্মলাভের পক্ষে তেমন আশাব্যঞ্জক নয়। ধর্মের প্রতি আকর্ষণ বাড়বে। শত্রুকে জয় করবেন। নিকটাত্মীয় বা কাছের বন্ধুর আচরণ মনকে ব্যথিত করবে। তবে স্বাস্থ্য অনেকটাই স্বস্তি দেবে।

প্রেমিকপ্রেমিকাদের মনে স্বস্তি আসবে। এমনিতেই আপনি অল্পেতেই ধৈর্য হারান, এখন আপনার ধৈর্য খানিক বাড়বে। নতুন প্রেমে ইচ্ছুকদের সময়টা প্রতিকূলে, উপেক্ষিত হওয়ার সম্ভাবনা।

সিংহলগ্নের জাতক জাতিকাদের দেহ ও মনের স্বস্তি অনেকটাই ফিরে আসবে। পূর্ব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে। সন্তানদের স্বাস্থ্য ও অন্যান্য অবস্থা বেশ বিব্রত করবে।

ভাদ্র ও ফাল্গুন এই দুটো মাস দেহ মন কর্ম ও সংসারজীবন সার্বিক অবস্থা প্রায়ই বড্ড বিব্রত করবে। অস্বস্তি আর অস্থিরতা থাকবে অতিমাত্রায়।

কি করলে একটু ভালো থাকবেন :

যে কোনও দুর্গামন্দিরে লাল অথবা হলুদ ফুল দিয়ে পুজো দিন প্রতি বৃহস্পতিবার। সারা বছরের দুর্ভোগ অনেকটাই কেটে যাবে। কাজটা মন্দিরে করতে পারলে ভালো। মহালক্ষ্মীর ছবি সংগ্রহ করে যে কোনও বৃহস্পতিবার থেকে পুজো শুরু করতে পারেন। পুজো বলতে রোজ স্নানের পর দুটো ধূপকাঠি দিয়ে আরতি করে স্পর্শ প্রণাম করবেন। একটু জলমিষ্টি দেবেন। আর কোনও নিয়ম নেই। মহালক্ষ্মীর চার হাত, দুহাতে পদ্ম আর এক হাতে টাকা ঝরছে।

কি রঙের পোশাক পরবেন :

লাল, গোলাপি, হলুদ, বাসন্তী রঙের পোশাক এই রাশির জন্য শুভ। শুভ প্রচেষ্টায় সাফল্য ও দেহমনের আনন্দদায়ক হবে। বাড়ি বা ঘরের জন্য এর যে কোনও একটা রং ব্যবহার করতে পারেন।


কন্যা রাশির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও মানসিকতা :

এই রাশির জাতক জাতিকাদের অধিকাংশেরই সৌম্যভাব প্রতিফলিত হয় মুখশ্রীতে। এদের সঙ্গে কথা বললে, দেখলে মনে হয় এরা চপল, গাম্ভীর্যের অভাব কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা নয়। সহজভাব ও সরলতার মধ্যে সবসময়েই হাঁটু গেড়ে বসে আছে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সংযমতা। এদের স্মৃতিশক্তি প্রখর। উপস্থিত বুদ্ধিও যথেষ্ট। নির্মল, নির্লোভ কমনীয়তা এই রাশির চরিত্রের একটা অনবদ্য দিক।

কন্যারাশির মধ্যে রয়েছে একটা আলাদা আকর্ষণী শক্তি। ফলে পুরুষ বিপরীতভাবে নারী একে অপরকে আকর্ষণ করতে পারে সহজেই। এরা অত্যন্ত প্রেমকাতুরে। পারিবারিক জীবনে এদের প্রায়ই ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হতে হয়। ফলে বহির্মুখী মন কারও না কারও ভালোবাসার উষ্ণ সান্নিধ্যে জড়িয়ে পড়ে। বিবাহের পূর্ব বা পরবর্তীকালে একাধিকবার প্রেমপ্রীতিতে প্রতারিত বা আঘাত পাওয়ার জন্যই যেন এদের জীবনে প্রেম আসে।

জীবনের প্রথমভাগে এদের স্বভাব থাকে কোমল। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লাউডগার মতো লকলকিয়ে বাড়ে স্বার্থপরতা। নির্মল হৃদয় পারিবারিক সংঘাতে হয়ে ওঠে কলুষিত। বহু কন্যা রাশির জাতক জাতিকাদের মন উন্নত হলেও যে কোনও সময় নিম্নগামী হওয়াটাই যেন বিধির লিখন। সংসারজীবনে উদাসীনতা পারিবারিক ক্ষেত্রকে অসুখী করে তোলে।

কন্যা রাশির জাতক জাতিকারা ভিন্নমতের স্ত্রী বা স্বামী লাভ করে। স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে সন্দেহের চোখে দেখে তাই এদের বিবাহিতজীবন সুখের হয় না।

যৌনজীবনে কন্যা রাশির জাতকদের উদাসীনতা স্ত্রীর রতিসুখ বঞ্চিত করে। কামকলায় পারদর্শী হলেও স্পর্শসুখে আগ্রহ বেশি। জাতিকারা স্বামীকে তৃপ্তিদানে প্রায়ই সক্ষম হয় না কারণ পরিতৃপ্তির চেয়ে স্পর্শসুখ কামনা করে বলে।

কন্যা রাশির জাতক জাতিকারা প্রেম ও ভালোবাসা দিতে জানে। উদাত্ত চিত্তে দিতেও জানে কিন্তু ভালোবাসার পাত্র বা পাত্রীরা নিতে জানে না।

বছরটা কেমন যাবে :

গত বছরের তুলনায় এ বছরটা সর্বাঙ্গীণ কাটবে অনেক স্বস্তিতে। কর্মজীবন ও অর্থভাগ্যের কমবেশি উন্নতি হবে। আটকে থাকা কোনও কাজ অনেকটা স্বস্তি দেবে। উটকো ঝামেলা আর ব্যয় চাপ কমবে। গতবছরের তুলনায় আয় খানিকটা বাড়বে। অপ্রত্যাশিত কিছু অর্থাগম হবে।

যারা যে কাজে যুক্ত আছেন তাদের সম্মান ও সুনাম বাড়বে। সারাবছর শত্রুকে জয় করবে। শিল্পী সাহিত্যিক ও পেশায় নিযুক্তদের সার্বিক উন্নতি উৎসাহ বৃদ্ধি করবে। পূর্ব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হতে পারে। বাড়িতে আত্মীয় সমাগম হবে, দেবালয় ভ্রমণ হবে, বেশ কয়েকবার সুন্দর উপহার পাবেন। এ বছর অনেকবারই শুভ কাজের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে অকারণ ঘোরাঘুরিই সার হবে।

বছরের অধিকাংশ দিন কাটবে দৈহিক ও মানসিক আনন্দে। কোনও নতুন পরিচিতিতে মানসিক আনন্দ বৃদ্ধি, অপ্রত্যাশিত কিছু অর্থ বা দ্রব্যপ্রাপ্তি, বেশ কয়েকবার আনন্দদায়ক সংবাদ পাবেন। কোথাও সৎ কিংবা সাধুসঙ্গ হবে। কর্মপ্রার্থীদের কর্মলাভের সম্ভাবনা। শত্রুদ্বারা ক্ষতির ভয় নেই। কুটুম্ব বৃদ্ধির যোগ। পরিস্থিতি প্রতিকূলে থাকলে আলাদা কথা, নয়তো অবিবাহিতদের অনেকের বিবাহ হবে।

প্রেমিক প্রেমিকাদের বছরটা সার্বিক কাটবে গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক আনন্দে। বেশ কয়েকবার কোনও দামী উপহার পাবেন। নতুন প্রেমে ইচ্ছুকদের জন্য বছরটা অনুকূলে। অপ্রত্যাশিত প্রেমিক বা প্রেমিকা জুটতে পারে।

কন্যা রাশির জাতক জাতিকাদের সার্বিক সময়টা কাটবে সার্বিক স্বাচ্ছন্দ্যের মধ্য দিয়ে।

আশ্বিন ও চৈত্র মাস দুটো দেহ-মনের অস্বস্তি বাড়াবে। মতবিরোধজনিত অশান্তি মানসিক শান্তি নষ্ট করবে।

কি করলে একটু ভালো থাকবেন :

মহালক্ষ্মীর ছবি ঠাকুরের আসনে বৃহস্পতিবার রেখে প্রতিদিন স্নানের পর দুটো ধূপকাঠি দিয়ে আরতি করে স্পর্শপ্রণাম করুন। কোনও নিয়ম নেই। প্রতি শুক্রবার কোনও মহিলা ভিখারিকে যে কোনও একটা ফল আর যা মন চায় অর্থ দেবেন। চেষ্টা করবেন সারা বছরে একটা শুক্রবারও যেন বাদ না যায়। কাজটা চলতে থাকলে কর্মজীবন, সংসার ও প্রতিষ্ঠাজীবনে চলার পথের বাধা অস্বস্তির থেকে মুক্তি পাবেন।

কি রঙের পোশাক পরবেন :

কন্যা রাশির জাতক জাতিকাদের জন্য হালকা আকাশই, হালকা সবুজ, হালকা হলুদ আর সাদা পোশাক অত্যন্ত শুভদায়ক। বাড়িঘরের রঙের মধ্যে থেকে একটা পছন্দ করতে পারেন।


তুলা রাশির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও মানসিকতা :

ভগবান শুক্রাচার্যের আনন্দময় ধাম তুলা রাশি। এই রাশিতে অন্তরের প্রকাশ শক্তির বিস্তার নেই ফলে জাতক জাতিকাদের মনোভাব বুঝে ওঠা কঠিন। মন ও স্বভাবের পরিবর্তন হতে পারে যে কোনও সময়ে। ভরা আবেগের রাশি হল তুলা।

দুর্দমনীয় প্রচেষ্টা নিয়ে এগিয়ে চলে জীবনপথে। জীবনকে আরও সুন্দর ও ঐশ্বর্যমণ্ডিত করে তুলতে সংঘাত এসে জীবনকে মরুময় করে তুলতে চায় কিন্তু ভগবান শুক্রাচার্যের আশীর্বাদপুষ্ট তুলারাশির কর্মের উদ্যম নষ্ট হয় না কখনও। শুক্রের প্রভাবে একদিকে চলে ভোগৈশ্বর্যের প্রচেষ্টা, আর একদিকে অন্তরে শনির ত্যাগ ও দুঃখবাদের সংমিশ্রণে। ফলে সংসারের সুখ স্বাচ্ছন্দ্য অনিত্য বলে বোধ হয়। এ দুয়ের টানাপোড়েনে এদের জীবনের কর্ম প্রায়ক্ষেত্রেই থেকে যায় অসম্পূর্ণ।

সুখের মধ্যে থেকে দুঃখের সন্ধান করায় আনন্দ নেই এতটুকুও। দুঃখের মধ্যে দিয়ে সুখের সন্ধান করাটাই যেন এই রাশির ধর্ম। জীবনের নানান অভিজ্ঞতায় মন এদের টইটম্বুর। এই রাশির জাতক জাতিকারা হারতে শেখেনি। আপন প্রচেষ্টাবলে সমাজে যথেষ্ট খ্যাতি ও পরিচিতি লাভ করে। সংগ্রামী জীবন এদের। শত বাধা বিঘ্নের মধ্যে দিয়েও প্রতিষ্ঠিত হয় ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের গুণে।

এরা ধার্মিক ও অধ্যাত্মবাদী হয়। ভ্রমণপিয়াসীও বটে। যে কোনও কাজ সুন্দরভাবে সুসম্পন্ন করতে ভালোবাসে। কখনও পরমুখাপেক্ষী হতে ভালোবাসে না। এরা শান্তিপ্রিয়। অনেক সময় অসহ্যও সহ্য করে, মেনে নেয় শান্তিভঙ্গের আশায়। সহ্যের বাইরে গেলে অশান্তি চূড়ান্ত পর্যায় যেতে পারে।

আনন্দপ্রিয়, মিশুকে অত্যন্ত রসিক ও অভিমানী হয়। অন্তর স্নেহ প্রেম ও মমতায় ভরা। পারদের মতো রাগ এদের ওঠানামা করে। তবে রাগ অতিমাত্রায় চড়লে অত্যন্ত প্রীতির ও মধুর সম্পর্কে ছেদ টানতে এতটুকুও কার্পণ্য নেই। কারণ দুঃখবাদের কারক শনিদেবের করুণায় এদের উপলব্ধ জ্ঞান ‘ওরা আমার কেউ নয়’, এই বোধের জন্য হাজার আত্মীয় বন্ধু থাকলেও অন্তরে নিঃসঙ্গ। নিজের বলে কাউকে গ্রহণ করে না। ফলে এদের আত্মীয় সংখ্যা কম। ভ্রাতাভগ্নীদের সঙ্গে প্রীতির সম্পর্ক থাকে না।

জাতক জাতিকাদের আপন স্নিগ্ধ উদারতায় বিপরীত লিঙ্গের আকর্ষণকে কিছুতেই যেন উপেক্ষা করতে পারে না। একাধিকবার প্রণয়াসক্ত হওয়াটাও সম্ভব। ভগবান শুক্রাচার্যের করুণাপুষ্ট রাশি তুলা। পুরুষেরা কামকলানিপুণ ও শৃঙ্গারপ্রিয়। জাতক নানা ধরণের কামকলার সহায়তায় রমণসুখ দিতে সমর্থ হয় স্ত্রীকে। জাতিকারা প্রায়ক্ষেত্রেই এ ব্যাপারে ব্যর্থ। তুলা রাশির পুরুষরা গতানুগতিক ধারার রমণে আগ্রহী নয়। রমণীরাও চিরাচরিত পদ্ধতির বাইরে যেতে চায় না। নারী বা পুরুষঘটিত ব্যাপারে এদের চরিত্র প্রায়ই দোষমুক্ত হয় না। তুলা রাশির ছেলে বা মেয়েরা বিপরীত লিঙ্গের কাছ থেকে অযাচিত ভালোবাসা পায়। উন্নত চরিত্রের হলেও এরা সন্দেহমুক্ত নয়।

বছরটা কেমন যাবে :

ক্ষেত্রবিশেষ ছাড়া তুলা রাশির জাতক জাতিকাদের খুব বাজে সময়টা কেটেছে। এখন থেকে সার্বিক অবস্থার হবে ধীরে ধীরে উন্নতি। ব্যবসায় কিংবা পেশায় যারা আছেন তাদের কর্মজীবন ও অর্থভাগ্যের কমবেশি উন্নতি হবে গত বছরের তুলনায়। এ বছর অনেক আনন্দদায়ক যোগাযোগ বাড়বে, উৎসাহিত হবেন। ফেলে আসা কিছু অপরিপক্ব পরিকল্পনা বাস্তব রূপ পাবে। স্বাধীন পেশা কিংবা লেখালেখির জীবনে যারা আছেন তাদের সুনাম ও সম্মান বৃদ্ধি পাবে।

স্বাস্থ্য এখন অনেকটাই স্বস্তির পথে থাকবে। দেহ ও মনের আমেজ অনেকটাই ফিরে আসবে। শত্রুতা করে কেউ আজ পর্যন্ত ক্ষতিসাধনে সমর্থ হয় নি, হবেও না। স্বজনদের কারও স্বাস্থ্যের জন্য অর্থব্যয় হবে। এ বছর পুরনো কোনও সমস্যার হাত থেকে এ বছর মুক্তি পেতে পারেন। আত্মীয়রা কোনও উপকারে কখনও আসে নি, এ বছর শুধুই নয়, কোনও কালেই আসবে না। সারা বছর বিভিন্ন পরিবেশে ছোটখাটো কারণে মাঝেমধ্যেই অশান্তি ভোগ করবেন।

নিজ কিংবা আত্মীয়দের গৃহে একাধিকবার শুভ কর্মানুষ্ঠানে হবে, আপনি নিমন্ত্রিত হবেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে অংশগ্রহণও করবেন। আপনার ভাবনার বাইরে কিছু অর্থাগম হবে। এ বছর একাধিকবার বেশ কয়েকটা সুসংবাদে আনন্দিত ও পুলকিত হবে। দূরপাল্লায় এবং নিকট ভ্রমণ হবে একাধিকবার। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে থাকবে কোনও না কোনও দেবস্থান। অবিবাহিতদের অনেকের বিবাহ হবে। অদীক্ষিতদের দীক্ষাও হবে অনেকের। ধর্মীয় জীবনের প্রতি আকর্ষণ বাড়বে গত কয়েক বছরের তুলনায়।

এ বছর কর্মপ্রার্থীদের অনেকের কর্মলাভ কিংবা ব্যবসায় আত্মনিয়োগ হবে। কোনও ব্যক্তির সহায়তা লাভ হবে।

প্রেমিক প্রেমিকাদের সারা বছরের অধিকাংশ দিনগুলোই কাটবে মানসিক আনন্দে। মাঝেমধ্যেই কাছাকাছি কোথাও বেড়াতে যাবেন সেটা প্রায়ই ক্ষেত্রেই কোনও দেবালয়। নতুন প্রেমে ইচ্ছুকদের সময়টা এখন অনুকূলে। তুলালগ্নের জাতক জাতিকাদের দেহমন কর্ম সংসার ও অন্যান্য সার্বিক অবস্থার অনেক স্বস্তি আসবে, শুভত্বের দিকে যাবে।

এই রাশির দেহমন সংসার ও অন্যান্য সার্বিক অবস্থা বেশ বিব্রত করবে বৈশাখ ও কার্তিক মাসে। বিশেষ করে দেহ ও মনের ক্ষেত্রে।

কি করলে একটু ভালো থাকবেন :

সম্ভব হলে প্রতি শনিবার নটা সাদা ফুল (টগর বাদ) আর কলা বাদে একটা ফল যে কোনও প্রতিষ্ঠিত কালীমন্দিরে সকাল থেকে রাতের মধ্যে যখন সময় পাবেন, দক্ষিণা সমেত দিয়ে চলে আসুন। কাজটা সমানে করতে থাকুন। সংসার ও প্রতিষ্ঠা জীবনের সার্বিক কল্যাণ তো হবেই, দেহমনের অস্বস্তি আর অশান্তির হাত থেকে অনেকটাই মুক্ত হবেন।

কি রঙের পোশাক পরবেন :

হালকা লাল, গোলাপি, সাদা, উজ্জ্বল হাল্কা আকাশী পোশাক সারাবছর দেহমনকে আনন্দ আর অধিকাংশ কাজে সফলতা দেবে সম্মানের সঙ্গে। আরও ভালো হয় বাড়িঘর পাতিলেবু রং করলে।


বৃশ্চিক রাশির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও মানসিকতা :

একগুঁয়ে মনোভাবাপন্ন এই রাশির জাতক জাতিকারা অধীর অস্থির, ক্রোধী, স্বার্থপর ও পরশ্রীকাতর হয়। সত্বগুণাশ্রয়ী মনের বিকাশ বৃশ্চিকে না থাকায় মনে উদারতার প্রকাশ কম। যেটুকু প্রকাশ তা নিতান্তই লোক দেখানো। যোগ্যতা থাক বা না থাক, অহংকারকে আশ্রয় করে চলাই যেন মজ্জাগত অভ্যাস। নিজের মনের পরিতৃপ্তির জন্য অন্যের ভালো লাগার তোয়াক্কা না করে এরা আত্মপ্রশংসায় পঞ্চমুখ। এদের আধ্যাত্মিকতাও ভণ্ডামি মিশ্রিত।

এই রাশির জিজ্ঞাসু মন পারলৌকিক জ্ঞানলাভের জন্য সাংসারিক পরিবেশে থেকেও বিচরণ করে অনেক ঊর্ধ্বে। জীবনের ব্যর্থতার মধ্যেও এরা খুঁজে নিতে চেষ্টা করে আধ্যাত্মিকতা, বেছে নিতে পারেন একেবারে দীনভাবে জীবন যাপন।

সংসারজীবনে এদের সকলকে মানিয়ে নিয়ে চলা প্রায়ই কষ্টকর হয়ে পড়ে। জাতিকাদের শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়দের সঙ্গে প্রীতির সম্পর্ক থাকে না। আত্মপ্রতিষ্ঠার জন্য অন্যের ক্ষতি করতেও কুণ্ঠিত হয়না। এরা ভীষণ স্বার্থান্বেষী। মতের বিরুদ্ধে কথা হলেই রেগে যায়।

যৌবনে জাতক নারীর প্রতি, বিপরীতভাবে জাতিকারা পুরুষের প্রতি প্রায়ই অতিমাত্রায় আকৃষ্ট হয়ে থাকে। এদের জীবনে প্রেম আসে একাধিকবার। একগুঁয়েমি, জেদ ও দাম্ভিকতা দিয়ে নারীর অন্তরের প্রেম সবলে ছিনিয়ে নিতে চায়। ফলে রূঢ় বাস্তব সে প্রেমে উপহার দেয় নিদারুণ ব্যর্থতা।

ব্যক্তিগত চরিত্র যৌবনে অধিকাংশেরই কলুষতামুক্ত থাকে না। রাশিতে অশুভগ্রহের প্রভাব থাকলে যৌনজীবনে স্বেচ্ছাচারীও হতে পারে। এই রাশিতে রজোগুণী মঙ্গলের প্রভাব ও মনের নিম্নগামীতায় বিবাহিতজীবনে জাতক প্রায়ই সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখে স্ত্রীকে। যথেষ্ট জ্ঞান থাকলেও স্বাভাবিক বুদ্ধির ক্লীবতা জাতক বা জাতিকাদের দাম্পত্যজীবনকে অনেকক্ষেত্রে বিষময় করে তুলতে পারে।

ফলে বহির্মুখী মনের অবৈধ যৌনজীবনেও লিপ্ত হয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

বৃশ্চিক রাশির ওপরে কোনও শুভ গ্রহের প্রভাব থাকলে জীবন ন্যায়নিষ্ঠ, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, সুখ ও আনন্দময় হয় সংসারজীবন।

বছরটা কেমন যাবে :

শেষ কয়েকটা বছর কাটল নানান ঝক্কি ঝামেলার মধ্যে দিয়ে। এ বছরটা যাবে অনেক স্বস্তির দিকে। কর্মজীবনে সম্মান ও সুনাম বাড়বে। কর্মজীবন ও অর্থভাগ্যের কমবেশি উন্নতি হবে। মনের অস্বস্তি অনেকটাই কমবে। অধিকাংশ প্রচেষ্টায় আসবে সাফল্য। ব্যয়চাপ থাকলেও অর্থাগম সম্পূর্ণ না হলেও অতিসামান্যই ঘাটতি মেটাবে। যে কোনও কারণে মনে হতাশা আসলেও তা অনেকটাই কেটে যাবে বিশেষ করে কর্ম ও আর্থিকক্ষেত্রে।

কর্মপ্রার্থীদের নতুন কর্মলাভের পক্ষে গত দু’বছরের তুলনায় এ বছর অনেকটাই অনুকূলে। চাকুরীজীবীদের তুলনায় পেশা বা ব্যবসায় নিযুক্তদের নতুন যোগাযোগ, কোনও উৎসাহবর্ধক সংবাদ, একাধিকবার কোনও না কোনও দেবালয় বা তীর্থভ্রমণ হবে। এ বছর অনেকবার নিজ এবং কোনও নিকট ও পরিচিতের গৃহে শুভ কর্মানুষ্ঠানে নিমন্ত্রিত হবেন, যাবেনও। কোথাও না কোথাও বেড়াতে যাবেন।

এবছর দেহ মন কর্ম ও সংসারজীবন ও অন্যান্য সার্বিক স্বস্তি আসবে অনেকটাই। যারা যে কর্মেই আছেন সেই কর্মেই কমবেশিই কমবেশি উন্নতি হবে। শত্রুতা করে কেউই ক্ষতিসাধনে সমর্থ হবে না। পুরনো কোনও সমস্যার সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা। ধর্মে বিশ্বাসী এই রাশির জাতক জাতিকাদের এবছর অনেকের দীক্ষালাভ ও তীর্থভ্রমণ হবে। এবছর অনেকগুলো শুভ সংবাদ পাবেন তবে তার মধ্যে একআধটা সংবাদ মনকে বিব্রত করবে।

সন্তান বিষয়ক মানসিক উদ্বেগ ও অস্বস্তি একটা থাকবে। পুরনো বন্ধুদের অনেকের সঙ্গে নতুন করে যোগাযোগ হবে। কর্মপ্রার্থীদের অনেকের কর্মলাভের সম্ভাবনা। এ বছর গৃহে অতিথি, বন্ধু ও পরিচিতের আগমন বাড়বে।

প্রেমিক প্রেমিকাদের খিচির খিচির ব্যাপার অনেকটাই কমে যাবে। মাঝেমধ্যে নিকট ভ্রমণ যোগ। প্রেমে প্রীতি বৃদ্ধি পাবে। নতুন প্রেমে ইচ্ছুকদের সময়টা প্রতিকূলে।

বৃশ্চিক লগ্নের জাতক জাতিকাদের দেহমন থাকবে গতানুগতিক। পায়ে আঘাত লাগার যোগ।

এই রাশির সার্বিক একটা অস্বস্তিকর অবস্থা মাঝে মধ্যেই বেশ বিব্রত করবে অগ্রহায়ণ ও জ্যৈষ্ঠ মাসে। বিশেষ করে শারীরিক ও মানসিক দিক থেকে।

কি করলে একটু ভালো থাকবেন :

প্রতি শনিবার সারাদিনের মধ্যে যে কোনও সময় একটা ভিখারিকে খেতে দিন। খাবারটা তৈরি করা, পেলেই যেন খেতে পারে। যেমন রুটি, সবজি, কচুরি, পাউরুটি বা মিষ্টি এই জাতীয়, সঙ্গে দক্ষিণা যা মন চায়। সংসার ও প্রতিষ্ঠা জীবনের অনেক দুর্ভোগ অশান্তির হাত থেকে মুক্তি পেয়ে যাবেন।

সকাল থেকে রাতের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত শনি মন্দিরে সাদা বাতাসা, সাদা ফুলের মালা আর যা মন চায় দক্ষিণা দিয়ে শনিদেবের পুজো দিলে অনেক দুর্ভোগের হাত থেকে রক্ষা পাবেন।

কি রঙের পোশাক পরবেন :

সাংসারিক মানসিক কর্ম ও প্রতিষ্ঠা জীবনের ক্ষেত্রে হালকা লাল, হালকা হলুদ, হালকা আকাশী ও সাদা রঙের পোশাক কল্যাণকর। আকাশীটা বাদ দিয়ে বাড়ি-ঘরের ক্ষেত্রে ওই রংগুলির যে কোনওটি ব্যবহার করতে পারেন।


ধনু রাশির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও মানসিকতা :

এই রাশির জাতক জাতিকারা আত্মবিশ্বাসী ও আত্মনির্ভরশীল হয়। নিয়ম ও শৃঙ্খলার সঙ্গে সমস্ত কাজ সুসম্পন্ন করতে আগ্রহী। এরা কোনও বিষয়ই গ্রাহ্য করতে চায় না ঠিক মতো যুক্তি প্রমাণ না পেলে। অল্প খরচে, খাটুনি কমে লাভ বেশি, সেদিকের সেই কাজেই ঝোঁক বেশি এদের। শারীরিক পরিশ্রমের তুলনায় মাথা খাটাবার কাজে আগ্রহী।

যোগ্যতার তুলনায় সবসময়েই কর্ম ও জ্ঞানকে ভিত্তি করে প্রচ্ছন্ন অহংকার একটা থাকে এই রাশির। দ্ব্যর্থকভাব মূর্ত হয়ে উঠেছে এদের মধ্যে। এরা কাউকে বিশ্বাস করতে পারে না। সন্দিগ্ধ ও সন্দেহমনা তাই কর্ম ও পারিবারিক জীবনে নিজে শান্তি পায় না, অন্যের শান্তি নষ্টের কারণ হয়। তমোগুণ সুপ্ত থাকে, উপ্ত হয়ে প্রকাশ লাভ করে না। জাতক উচ্চবর্ণের হলে বিবাহ প্রায়ই এদের পরিচিতের মধ্যে নীচবর্ণে।

যৌবনের প্রথম অবস্থায় চরিত্র প্রায়ই নির্মল থাকে না। নেশাচ্ছন্নের মতো অন্তরে সব সময়েই নারীভোগের স্পৃহা। বিবাহের পরবর্তীকালে জাতকের জীবনে একাধিকবার প্রণয়িনীর প্রভাব ও নারীদেহের স্বাদ উপভোগ করা অস্বাভাবিক নয়। ধনু রাশির জাতকের প্রকৃত মন ও চরিত্রের সন্ধান স্ত্রী সারাজীবনেও পায় না। জাতক জাতিকাদের ইচ্ছে অনিচ্ছায় একাধিক রমণী বা পুরুষের উষ্ণ সংস্পর্শে আসতেই হয়। প্রেমকাতরতার জন্য এদের কাছ থেকে প্রকৃত সত্য আশা করাই বৃথা। এরা কখনও উদার চরিত্রের হয় না, যেটুকু উদারতা তা স্বার্থসিদ্ধির জন্য লোকদেখানো। স্বেচ্ছায় কোনও নারী বা পুরুষ এদের দেহভিক্ষা চাইলে সচরাচর বিমুখ করে না।

ধনু রাশির জাতকের পত্নী গভীরভাবে কর্তব্যপরায়ণা হয় অথচ জাতকেরা পত্নীর সার্বিক বিষয়ে থাকে যথেষ্ট উদাসীন। প্রেমপ্রীতি ও বিবাহিতজীবনে স্ত্রীসঙ্গ এদের অভিনয়ের নামান্তর। প্রেম নেই, আন্তরিক ভালোবাসা নেই, আছে এক প্রচ্ছন্ন নারকীয়তা। দাম্পত্যজীবনে জাতক স্ত্রীকে রতিতৃপ্তিদানে ব্যর্থ। আত্মগতভাবে এরা যৌনসুখে সুখী।

এই রাশির জাতিকারা স্বামী নির্মল চরিত্রের হলেও সন্দেহ করতে এতটুকুও কুণ্ঠিত নয়। কামকলার নানান শৃঙ্গারে এদের অরুচির আর শেষ নেই। গতানুগতিক ধারার বাইরে যেতে যেন হাজার জ্বালা। ফলে স্বামী দেহউল্লাস ও আনন্দহীন যৌনজীবন যাপন করে। স্ত্রী স্বামীঅনুরাগিনী হলেও বিবাহিত ও যৌনজীবনে মনের মিলের অভাবটা থেকেই যায়।

বছরটা কেমন যাবে :

ধনু রাশির জাতক জাতিকাদের বছরের অধিকাংশ সময়টা কাটবে একটা অস্বস্তি আর অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে। স্বাস্থ্য মাঝেমধ্যেই বেশ বিব্রত করবে। পায়ে আঘাত লাগা সম্পর্কে সাবধানতা প্রয়োজন। উটকো ঝামেলা আর ব্যয় বাড়বে হই হই করে।

ব্যবসায় ও পেশায় নিযুক্তদের অধিকাংশেরই মাঝে মাঝে বেশ ভালো আবার কখনও কাটবে একটা অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্যে দিয়ে। ঝুঁকি আছে এমন কাজ এবছর না করাই ভালো। অর্থ দিয়ে বিশ্বাস করার ব্যাপারটা এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের। টাকা দিলে চট করে ফেরত পাওয়ার আশা কম। বিদ্যার্থী ও কর্মপ্রার্থীদের বছরটা প্রায়ই থাকবে প্রতিকূলে।

বিবাহিতদের পারিবারিক স্বস্তি নষ্টের যোগ। সামান্য ব্যাপারটা বেশ বড় আকার ধারণ করতে পারে। মানসিক অস্থিরতা আর শারীরিক অস্বস্তি বাড়বে। স্বাস্থ্যের কারণে যথেষ্ট ব্যয় বাড়বে। কর্মক্ষেত্রে শত্রুতা বাড়বে তবে ক্ষতি কিছু হবে না। আত্মীয় প্রীতিতে বাধা জন্মাবে।

অনেক অসুবিধা থাকবে তবে তা স্বত্বেও একাধিকবার কোথাও না কোথাও বেড়াতে যাবে তার মধ্যে অধিকাংশ থাকবে দেবালয়। ধর্মের প্রতি আকর্ষণ বাড়বে। দীক্ষাপ্রার্থীদের অনেকের দীক্ষালাভ হবে। গুরুনির্বাচনে সতর্ক না হলে জালি গুরুর পাল্লায় পড়তে পারেন। গৃহে আত্মীয় ও বন্ধু সমাগম বাড়বে। একাধিকবার কোনও শুভ কর্মানুষ্ঠানে নিমন্ত্রিত হবে। নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে গিয়ে ব্যয় বাড়বে যথেষ্ট। অপ্রত্যাশিত কোনও শুভ যোগাযোগ অথবা কোনও সংবাদ উৎসাহিত করবে।

প্রেমিক প্রেমিকাদের সারা বছরের অধিকাংশ সময়টা কাটবে অভিমানজনিত অশান্তিতে। ক্ষেত্র বিশেষে সাময়িক বিচ্ছেদ আসতে পারে। নতুন প্রেমে ইচ্ছুকদের প্রত্যাখ্যাত হওয়ার সম্ভাবনা।

ধনুলগ্নের জাতকজাতিকাদের অধিকাংশের দেহমন প্রায়ই বড্ড বিব্রত করবে। একটা না একটা লেগে থাকবে।

এ রাশির পৌষ আর আষাঢ় মাস দুটো কাটবে নানান ধরণের অস্বস্তি অশান্তি আর অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে। স্বাস্থ্য ভালো যাবে না।

কি করলে একটু ভালো থাকবেন :

প্রতি শনি ও মঙ্গলবার যে কোনও কালীমন্দিরে কলা বাদে যে কোনও একটা ফল, ফুল আর দক্ষিণা দিয়ে পুজো দিন। কোনও নিয়ম নেই। সকাল থেকে রাতের মধ্যে যখন খুশি মন্দিরে গেলেই হল। গলায় সম্ভব হলে হনুমানজির একটা লকেট লাল কার দিয়ে ধারণ করুন। দুর্ভোগ কাটবে নিশ্চিত।

প্রতি মঙ্গল ও শনিবার নিত্য পুজো হয় এমন যে কোনও হনুমান মন্দিরে জবা আর সুমিষ্ট পাকা ফল দিয়ে পুজো দিন, দেখবেন দারুণভাবে বিপদ আপদ থেকে রক্ষা পাবেন। সংসার ও প্রতিষ্ঠা জীবনের দুর্ভোগও কাটবে অপ্রত্যাশিতভাবে।

কি রঙের পোশাক পরবেন :

পোশাকের রং হলুদ, গোলাপি, হালকা লাল রাখতে চেষ্টা করুন। সারাটা বছর সবদিক দিয়ে অনেক স্বস্তিতে থাকবেন। বাড়ি ঘরের রং হলুদের উপর ভরসা করলে অর্থ সম্মান দুইই আসবে।


মকর রাশির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও মানসিকতা :

এই রাশির জাতক জাতিকাদের পরিশ্রমে কার্পণ্য নেই, বিমুখও হয় না কখনও। এরা অধ্যবসায়ী। নিজের স্বাধীন চিন্তা ও পরিকল্পনামাফিক কাজ করে। হাজার সমস্যা ও দুঃখকষ্ট নীরবে সহ্য করতে এ রাশির যেন বিকল্প নেই। কোনওভাবেই দমে যাওয়ার নয়। এদের মন ও মত, কর্মচিন্তা ও পদ্ধতি, সামাজিকতা, স্নেহ ভালোবাসা ও প্রীতি সাধারণের তুলনায় একটু ভিন্ন ধরণের। মিতব্যয়ী ও সঞ্চয়ী। কৃপণ নয় তবে অত্যন্ত সতর্ক থাকে খরচ সম্পর্কে। এরা বড়ই দুঃখিত হয় অন্যের দুঃখে। প্রায়ক্ষেত্রেই এরা ঘোর সংসারী হয়, উদাসীন খুবই কর্মক্ষেত্রে। মাঝেমধ্যে এদের নির্লজ্জতা অন্যের কাছে নিজেকে ছোটমনের প্রতিপন্ন করে তোলে। এরা নিজের চেষ্টায় উন্নতি করে, প্রতিষ্ঠিত হয়।

দুঃখকে জয় করার ক্ষমতা যেন জন্মগত, যা সযত্নে নিহিত আছে এদের আত্মশক্তিতে। বিলাসে প্রমত্তের চেয়ে এরা একেবারেই সাধারণ জীবনযাপনের পক্ষপাতী।

এই রাশির যৌন আবেদন ও আকর্ষণ বড্ড বেশি। সহজভাবে কোনও নারী বা পুরুষ যদি এদের জীবনে এসে ধরা দেয়, তবে তাকে প্রায়ই উপেক্ষা করতে পারে না। ভোগ করলে অপরাধ হবে এ কথায় বিশ্বাস নেই, স্বীকারও করতে চায় না। যৌবনে কিছুটা অপবিত্র হয়ে যায় অসৎসঙ্গে পড়ে।

বিবাহের পূর্ব ও পরবর্তীকালে একাধিকবার প্রেমাবদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এই রাশির জাতকেরা বেশিরভাগই স্ত্রীসুখে বঞ্চিত হয় নিজের দোষে। জাতকের স্ত্রীর প্রতি ব্যবহার প্রায়ই মমতা ও সৌজন্যবোধের সীমারেখা ছাড়িয়ে যায়। ফলে এই রাশির বিবাহ বিচ্ছেদের সংখ্যা যথেষ্ট বেশি। দাম্পত্যজীবনে অনেক সময় স্ত্রীকে সন্দেহের চোখে দেখে। এই সন্দেহই ধীরে ধীরে অশান্তির কারণ হয়ে ওঠে।

এই রাশির জাতক জাতিকাদের বিবাহিতজীবনে মন অধিকাংশ সময়েই কোনও না কোনও কারণে থাকে বিষাদাচ্ছন্ন হয়ে। ফলে দাম্পত্যসুখ মনের মতো হয় না। স্বামী মনোমতো হয় না স্ত্রীর, আবার স্ত্রীও হয় না স্বামীর মনের মতো। ফলে সহবাসে আন্তরিকতা কম। উভয়ের মধ্যে আদর্শগত বনিবনার অভাবে অনেকক্ষেত্রে আইনের পথ বেছে নেয়া ছাড়া অন্য পথ যেন আর খোলা থাকে না।

বছরটা কেমন যাবে :

কর্মজীবনে লক্ষণীয় কোনও পরিবর্তন না হলে অপ্রত্যাশিত কোনও যোগাযোগে উৎসাহিত হবেন। খরচের মাত্রা বাড়বে লাগাম ছাড়া। চাকরিজীবী ও পেশায় নিযুক্তদের সময়টা কাটবে প্রায়ই একটা অস্বস্তির মধ্যে দিয়ে। সার্বিক চাপের মধ্যে দিয়েও অর্থাগম অব্যাহত থাকবে। কর্মপ্রার্থীদের বাধা সত্ত্বেও অনেকের কর্মলাভ হবে।

বছরের অনেক সময় আত্মীয় ও বন্ধুসমাগমে আনন্দ বাড়বে, বিরক্তিও। নিকট কোনও আত্মীয় কিংবা বন্ধুর সঙ্গে প্রীতির সম্পর্ক নষ্টের সম্ভাবনা। কোনও বয়স্ক ব্যক্তির সহায়তা লাভ হবে। স্বাস্থ্যটা মাঝেমধ্যেই বিগড়াবে। পুরনো কোনও সমস্যার সমাধান হওয়ার যোগ। নিকট মন্দির ভ্রমণ যেমন হবে তেমনই দূরপাল্লায় কোথাও যাবেন। কখনও কারণে, কখনও অকারণে মনটা খারাপ হবে। এটা হবে সাময়িক। পড়ে ধীরে ধীরে সব কাটিয়ে উঠবেন।

এ বছর নিজ কিংবা কোনও নিকট আত্মীয়ের গৃহে শুভ কর্মানুষ্ঠান, দীক্ষালাভের সম্ভাবনা প্রবল। কোনও মূল্যবান দ্রব্য অথবা সুন্দর ও মনের মতো উপহার পাবেন।

বিবাহিত জীবনে মতবিরোধজনিত অশান্তিতে প্রায়ই মনের শান্তি নষ্ট হবে। প্রেমিক প্রেমিকাদের বছরটা কাটবে ভালোমন্দ মিশিয়ে। কখনও বেশ আনন্দে কাটবে, কখনও অভিমানজনিত অশান্তিতে মন হবে ভারাক্রান্ত। এসব সত্ত্বেও দেবালয় ভ্রমণ হবে বছরে বেশ কয়েকবার। নতুন প্রেমে ইচ্ছুকদের পক্ষে সময়টা থাকবে প্রতিকূলে।

মকরলগ্নের স্বাস্থ্য প্রায়ই বড্ড বিব্রত করবে। উটকো ঝামেলা আর ব্যয় বাড়বে অতিমাত্রায়। পত্নীর স্বাস্থ্য বিব্রত করবে।

এ রাশির জাতক জাতিকাদের মাঘ আর শ্রাবণ এই দুটো মাস সব দিক থেকে সময়টা প্রায়ই চলবে একটা অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্যে দিয়ে। অধিকাংশ শুভ প্রচেষ্টায় ব্যর্থতা, রাগ জেদ বেড়ে যাওয়া, মতবিরোধজনিত অশান্তিভোগ, জরুরি কাজে বেরিয়ে অকারণ ঘোরাঘুরি হওয়ার সম্ভাবনা।

কি করলে একটু ভালো থাকবেন :

প্রতি শুক্রবার ভিখারিকে তৈরি করা খাবার একটু খেতে দিন। কিছু না পেলে দুটো মিষ্টি আর দক্ষিণা বাবদ যা মন চায় কিছু দিন। সারাবছরের দুর্ভোগ অনেক কেটে যাবে। সঙ্গে আর একটা কাজ করতে পারলে ভালো হয়। প্রতিদিন যে কোনও খাবার একটু কুকুরকে খেতে দিন। মাঝে মাঝে কুকুর খাবে না। একটা কুকুর না খেলে আর একটাকে দিন। অনেক ভোগান্তি কেটে যাবে।

কি রঙের পোশাক পরবেন :

সারাবছর একটু চেষ্টা করুন পোশাকের রঙটা সবুজ, আকাশী, হালকা বা একটু গাঢ় হলুদের মধ্যে রাখতে। দেহমন কর্ম ও পারিবারিক ক্ষেত্রের অস্বস্তি অনেকটাই কাটবে। অধিকাংশ শুভ প্রচেষ্টায় সাফল্য আসবে। বাড়ি ঘরের রং হলুদ রাখলে ভালো হয়।


কুম্ভ রাশির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও মানসিকতা :

শনিদেবের আনন্দস্থান বলা হয়ে থাকে কুম্ভ রাশিকে। সাংসারিক জীবনের সমস্ত দুঃখ কষ্ট সহ্য করে মানুষ যেমন দুঃখকে জয় করেই পরমানন্দ লাভ করে, তেমনই অফুরন্ত আনন্দভাবে ভরপুর এই রাশি। শনিকে দাস বলা হয়েছে তৈতিরীয় উপনিষদে। শনিদেবের সে দাসভাবের মুক্তি বা অবসান ঘটেছে এখানে। এ দাসের দেহ আছে তবে দেহের প্রতি এতটুকুও যত্ন নেই, আছে এক নিঃস্পৃহ উদাসীনতা। রয়েছে পূর্ণ সংযমতা, বৈরাগ্যের অনাবিল উদারনিষ্ঠতা। সংসারে ভোগের প্রতি নিঃস্পৃহতায় অনেকসময় অধ্যাত্মজীবন যাপনে ইচ্ছুক হয় এরা।

কুম্ভ রাশির জাতক জাতিকাদের প্রায়ই দেখা গিয়েছে বিবাহের পূর্ববর্তী জীবনের তুলনায় পরবর্তী জীবনে অনেক বেশি আত্মসংযমতা। অনেকক্ষেত্রে সৃষ্টির আদিমতম চাহিদাকে বিবাহোত্তর জীবন অস্বীকার করতে চায়। সেইজন্য এই রাশির সাংসারিকজীবনে বিবাহ বিচ্ছেদের সংখ্যা বেশি।

যৌনজীবনে সংযমতার প্রয়াসী। রাশির উপরে অশুভগ্রহের প্রভাব থাকলে সম্পূর্ণ বৈপরীত্য ঘটে এদের চরিত্রে। ভোগের স্পৃহা তখন এমন দুর্দমনীয় হয়, যেকোনও নিম্নস্তরের কাজ করতে অন্তরে এটুকুও হেলদোল হয় না। শুভ গ্রহাশ্রিত হলে কুম্ভ রাশির জাতকের অন্তরে জন্ম নেয় আধ্যাত্মিকতা, বিকাশ ঘটে পরিপূর্ণ জ্ঞানের। উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায় অধ্যাত্মচেতনা। স্ত্রীও মেনে নেয় জাতকের আদর্শ। জাতিকার এ যোগে জন্ম হলে ঈশ্বরভক্তিপরায়ণা হয়। সুখের হয় বিবাহিত জীবন।

এই রাশির অনেকক্ষেত্রেই স্বাভাবিক ইন্দ্রিয়ক্ষমতা অন্যান্য রাশির জাতকের তুলনায় কম। যারজন্য যৌনজীবনে স্ত্রীকে প্রায়ই রতিসুখ দিতে ব্যর্থ হয়। ফলে দাম্পত্যজীবন ও প্রীতিতে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে মনের দূরত্ব বেড়ে যায় অজান্তেই। এদের মধ্যে বেশি থাকে আলিঙ্গন মত্ততা, স্পর্শসুখের কাতরতা।

দম্ভ, অহংকার, পরশ্রীকাতরতা কুম্ভ রাশির জাতক জাতিকাদের চরিত্রবিরুদ্ধ। এগুলির আবির্ভাব ঘটলেই বুঝতে হবে এদের জীবনপ্রবাহ এগিয়ে যাচ্ছে দুর্ভোগময় জীবনের পথে।

বছরটা কেমন যাবে :

এ বছর কর্মজীবন ও অর্থভাগ্যের কম হোক আর বেশিই হোক, কিছু না কিছু উন্নতি হবে। শিল্পী ও পেশায় নিযুক্তদের যোগাযোগ অনেকটা বাড়বে। অপ্রত্যাশিত কিছু অর্থাগম হবে। যারা যে ক্ষেত্রে আছেন তাদের সম্মানের ক্ষেত্রটা প্রসারিত হবে। চাকুরিয়াদের চলমান অর্থভাগ্যের খুব বেশি হেরফের হবে না তবুও কিছু আর্থিক উন্নতি হবে। ঝুঁকি নিয়ে কাজ করার পক্ষে সময়টা এখন অনুকূলে।

গত বছরের তুলনায় এবছর দেহ ও মনের অনেক স্বস্তি আসবে। স্বাস্থ্য বেশ সুস্থ হয়ে উঠবে। চাকরিজীবীরা কর্মক্ষেত্রে প্রশংসিত হবেন। কর্মপ্রার্থীদের অনেকেরই কর্মলাভের সম্ভাবনা। সন্তানদের নিয়ে মানসিক অশান্তি খানিকটা কমবে। শত্রুতা করে কেউ ক্ষতিসাধনে সমর্থ হবে না।

কোনও বন্ধু কিংবা আত্মীয়ের কাছ থেকে কয়েকবার সুন্দর উপহার পাবেন। কাছাকাছি কোথাও বেড়াতে যাবেন। দূরপাল্লায় ভ্রমণও হবে। এবছর অনেকবার কোনও না কোনও সুসংবাদে আনন্দিত হবেন। আত্মীয় ও বন্ধুদের গৃহে নিমন্ত্রিত হবেন। কোনও বয়স্ক ব্যক্তির সহায়তা লাভ হবে।

বিবাহিতদের মাঝেমধ্যে পারিবারিক অশান্তি মানসিক শান্তির অন্তরায় হবে। পায়ে আঘাত লাগার যোগ। দলবদ্ধ ভাবে কোথাও বেড়াতে গেলে অশান্তি ভোগ করবেন। সারা বছর গৃহে কমবেশি আত্মীয় ও বন্ধু সমাগমে মানসিক অস্বস্তিতে ভুগবেন। তবে আর যাইহোক এবছর সার্বিক অনেক স্বস্তিতে থাকবেন। কর্মপ্রার্থী ও বিদ্যার্থীদের পক্ষে বছরটা শুভ সূচক।

প্রেমিক প্রেমিকাদের বছরের অধিকাংশ দিনগুলো কাটবে আনন্দে। প্রীতি ও আন্তরিকতায় মনটা ভরে উঠবে। নতুন প্রেমে ইচ্ছুকদের পক্ষে সময়টা এখন অনুকূলে।

কুম্ভলগ্নের দেহমন সংসার ও অন্যান্য সার্বিক স্বস্তি আর স্বাচ্ছন্দ্য বাড়বে ধীরে ধীরে।

এই রাশির জাতক জাতিকাদের ফাল্গুন আর ভাদ্র এদুটো মাস কাটবে নানান ঝুটঝামেলা অস্বস্তি আর অশান্তির মধ্যে দিয়ে।

কি করলে একটু ভালো থাকবেন :

প্রতি শনিবার যে কোনও শনিমন্দিরে সাদা বাতাসা, সাদা ফুলের মালা আর দক্ষিণা দিয়ে পুজো দিন। মালায় রঙিন ফুলের লকেট থাকলে বাদ দেবেন। এতে সারা বছরের দুর্ভোগ কাটবে। প্রতি সোমবার সকাল থেকে রাতের মধ্যে একটা সাদা পদ্ম, না পেলে সাদা শাপলা ফুল একটা কিংবা সুগন্ধি সাদা ফুল যে কোনও শিবমন্দিরে শিবলিঙ্গে স্পর্শ করে রেখে এলেই হবে। এক বছর এ কাজটা করলে সংসারে ও প্রতিষ্ঠা জীবনের সার্বিক কল্যাণ হবে। অনেক বিপদ-আপদ ও দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পাবেন আশ্চর্যজনকভাবে।

কি রঙের পোশাক পরবেন :

আর্থিক মানসিক সাংসারিক কর্ম ও প্রতিষ্ঠাজীবনে সুন্দরভাবে বছর কাটাতে আকাশী, সাদা, হালকা হলুদ, হালকা সবুজ রঙের পোশাক সর্বাঙ্গীণ অনেক স্বস্তি ও আনন্দ দেবে। বাড়ি ঘরের রং সাদার উপর রাখতে পারেন।


মীন রাশির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও মানসিকতা :

দেবগণের ঋষি অঙ্গিরার পুত্র দেবগুরু বৃহস্পতি। জ্ঞানযোগী বৃহস্পতির আপনক্ষেত্র এবং কর্মযোগী ভোগবাদী দৈত্যগুরু শুক্রাচার্যের তুঙ্গক্ষেত্র মীন রাশি। তাই মীন রাশির জাত জাতিকাদের মধ্যে রয়েছে সত্যের পরিচয়, কর্তব্যনিষ্ঠা ও আদর্শবাদের বলিষ্ঠ প্রকাশ। আধ্যাত্মিক অনুভূতিকে এরা চিরন্তন করে রাখতে চায় মনের প্রতিটা স্তরে। দৈত্যগুরু অন্যদিকে শিক্ষা দিয়েছেন কর্মের মধ্যে দিয়ে লাভ করতে হবে ত্যাগকে। তবে ভোগবাদকে অস্বীকার অস্বীকার করে কিছুতেই লাভ করা যায় না ত্যাগবাদকে। চাই ভোগ, সৃষ্টি, আনন্দ, দৈহিক পরিতৃপ্তির জন্য ইন্দ্রিয়সুখ। সত্ত্ব ও রজোগুণের এই বিকাশই প্রস্ফুটিত হয়েছে মীন রাশির জাতক জাতিকার মধ্যে। ধর্ম শুধুমাত্র ত্যাগের নয়, ভোগেরও অধিকার রয়েছে পূর্ণমাত্রায়।

এই রাশি জন্মকুণ্ডলীতে পাপগ্রহ দ্বারা পীড়িত হলে সমস্ত সত্ত্বগুণ নষ্ট হয়ে যায়। তখন ভোগের জন্য ব্যাকুল মন খুঁজে পায় না তার প্রকৃত চরিত্রকে। রাশির উপরে শুভগ্রহের প্রভাব থাকলে জাতক জাতিকাদের মন চরিত্র সংসারজীবন ও অন্যান্য বিষয় সার্থক সুন্দর হয়ে ওঠে সবদিক থেকে।

যৌনজীবনে এই রাশির জাতক জাতিকারা যথেষ্ট সংযমী। দাম্পত্যজীবন স্বাভাবিকভাবেই সুখের হয়ে থাকে। মূল জন্মকুণ্ডলীতে বিভিন্ন ভাবে গ্রহের অবস্থান অশুভ অবস্থায় থাকলে এরা সংসারজীবনে দুঃখী হয়ে থাকে। দাম্পত্যজীবনে সমস্যাটাই দেখা দেয় বেশি করে। যৌনজীবনে প্রায়ই জাতক অত্যন্ত সন্দেহপরায়ণ হয়ে ওঠে। স্ত্রীর আদর্শের সঙ্গে জাতকের মতাদর্শের বড় একটা মিল হয় না। চরিত্রে আত্মগর্ব, কর্ম ও জ্ঞানের একটা দম্ভ থাকে প্রচ্ছন্নভাবে। জাতকেরা প্রায়ক্ষেত্রেই স্ত্রীকে বুদ্ধিহীনা মনে করে। এরা রতিবিহারে আনন্দ পায়। বিভিন্ন ভাব ও কলাকে আশ্রয় করে তৃপ্তিলাভ করে। জাতিকারা অতিমাত্রায় তৃপ্ত করতে পারে স্বামী বা প্রিয়সঙ্গীকে।

এই প্রসঙ্গের উপসংহারে বলি, বিবাহোত্তর জীবনে নরনারীর মধ্যে প্রেম ভালবাসা মধুর আনন্দভরা জীবনের অনেকটাই নির্ভর করে যৌনমিলনের আত্মিক সুখৈশ্বর্যে। দম্পতির যৌন ও দাম্পত্যজীবনকে নিয়ে সমস্যা চিরন্তন। ভেঙে খানখান হয়ে যায় সুখের সংসার। বিবাহের পূর্বে যোটক মিলটা দেখে নিলে সবটা না হলেও স্বস্তি কিছুটা আসে। আর একটা কথা অবশ্যই স্মরণযোগ্য, রাশি গণ ইত্যাদির মিল না হলেই যে বিবাহ নিষিদ্ধ হবে, এ কথায় শাস্ত্রীয় প্রমাণ থাকলেও এ বিধি সর্বত্র পালনীয় নয়।

বছরটা কেমন যাবে :

গত বছরের তুলনায় এ বছর ব্যবসায়ী ও পেশার সঙ্গে যুক্তদের কর্মজীবন ও অর্থভাগ্যের কমবেশি উন্নতি হবে। শারীরিক ও মানসিক অস্বস্তিটাও কেটে যাবে অনেকটা। অপ্রত্যাশিত কোনও যোগাযোগে কিছু অতিরিক্ত আয় হবে। কোনও শুভ যোগাযোগে উৎসাহিত হবেন। কর্মপ্রার্থীদের সুন্দর যোগাযোগ এসেও তা ভেস্তে যাওয়ার সম্ভাবনা। কোনও জটিল সমস্যা বা ঝামেলার হাত থেকে মুক্তি পেতে পারেন। কোনও পূর্ব পরিকল্পনা বাধা ভোগান্তির পর বাস্তব রূপ পাবে।

সন্তানদের কারো স্বাস্থ্য বিব্রত করবে। বিদ্যার্থীদের শিক্ষায় অমনোযোগ ও অস্থিরতা বাড়বে। শত্রুদ্বারা ক্ষতির ভয় নেই। আয় বাড়লেও ব্যয়ের চাপটা থেকে যাবে। এবছর প্রায়ই কারণে অকারণে কথা কাটাকাটি ও অশান্তিতে জড়িয়ে পড়ে মনের স্বস্তিটা নষ্ট হবে। কারও কথায় মন সাময়িক আহত হতে পারে।

কারও সঙ্গে নতুন পরিচয়ে আনন্দিত হবেন। আপনাদের কিংবা নিকট আত্মীয়ের গৃহে একাধিকবার শুভ কর্মানুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন। অদীক্ষিতদের অনেকেরই দীক্ষালাভ হবে। বেশ কয়েকবার কাছাকাছি দেবালয় ভ্রমণ ছাড়াও দূরপাল্লায় কোথাও বেড়াতে যাবেন। বছরের অধিকাংশ সময় গৃহে আত্মীয় ও বন্ধু সমাগমে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হবে। বেশ কয়েকবার সুসংবাদ পাবেন। যারা জনসংযোগের কাজে যুক্ত তারা বিশেষ কোনও গুণ বা কাজের জন্য প্রশংসিত হবেন। কুটুম্ব বৃদ্ধির যোগ। পায়ে আঘাত লাগা কিংবা মচকে যাওয়ার সম্ভাবনা। বিবাহযোগ্য জাতক জাতিকাদের বিবাহে বাধা বিলম্বের যোগ।

সারা বছর দেহ ও মনের চাপ একটা থাকবে তা সত্ত্বেও সার্বিক বছরটা কাটবে অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক স্বস্তিতে।

প্রেমিক প্রেমিকাদের বছরটা কখনও কাটবে একটা অদ্ভুত অস্থিরতায় আবার কখনও প্রীতি ও আনন্দে। নতুন প্রেমে ইচ্ছুকদের সময়টা ‘না খুব মিঠে, না খুব কড়া’।

মীন লগ্নের সারা বছর দেহ ও মনকে সময়টা প্রায়ই বড্ড বিব্রত করে রাখবে। স্বাস্থ্য সতর্কতা প্রয়োজন।

এই রাশির জাতক জাতিকাদের চৈত্র ও আশ্বিন এই মাস দুটোর অধিকাংশ দিনগুলো কাটবে কারও সঙ্গে মনোমালিন্য, বচসা, অতিরিক্ত ব্যয় বৃদ্ধি, দেহ মনের অস্বস্তি আর অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে।

কি করলে একটু ভালো থাকবেন :

একটা ছয় মাথা কার্তিকের ছবি সংগ্রহ করে ঠাকুরের সিংহাসনে রাখুন। প্রতিদিন একটু আরতি করে তিনবার স্পর্শ প্রণাম করলেই হবে। সারা বছরের অনেক বাধা-বিপত্তি ও দুর্ভোগের হাত থেকে রক্ষা পাবেন। কাজটা করবেন স্নানের পর। কোনও নিয়ম নেই।

কি রঙের পোশাক পরবেন :

সারাটা বছর সার্বিকভাবে নিজেকে সুন্দর ও আনন্দময় রাখতে সাদা আর হলুদের উপর পোশাক বেশি ব্যবহার করতে চেষ্টা করুন। এই রং দুটো অর্থ ও সম্মান বৃদ্ধি করবে। ওই দুটো রঙের যে কোনওটাই বাড়ি ঘরে ব্যবহার করতে পারেন।

পাঠক-পাঠিকাদের অবগতির জন্য বলি, এখানে যে প্রতিকার দেওয়া হল তা সারা জীবনের জন্য নয়। সাময়িক অস্বস্তিকর সময়ের হাত থেকে খানিকটা স্বস্তি পেতে। যখন সময়টা ধীরে ধীরে শুভ হয়ে উঠবে, তখন প্রতিকার না করলেও চলবে। করলে কল্যাণ কিছু হবে, না করলে ক্ষতি কিছু হবে না।

প্রতিকারগুলো নিষ্ঠার সঙ্গে করলে ফল অবধারিত। অশ্রদ্ধা, অবিশ্বাস ও অভক্তিতে করলেও ফলের মার নেই। তবে ফল তাড়াতাড়ি না দেরিতে, তা নির্ভর করে ব্যক্তিগত জন্মকালীন সার্বিক গ্রহাবস্থানের উপর, যা বিশদ আলোচনা সাপেক্ষ।



About Sibsankar Bharati

স্বাধীন পেশায় লেখক জ্যোতিষী। ১৯৫১ সালে কোলকাতায় জন্ম। কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্যে স্নাতক। একুশ বছর বয়েস থেকে বিভিন্ন দৈনিক, সাপ্তাহিক পাক্ষিক ও মাসিক পত্রিকায় স্থান পেয়েছে জ্যোতিষের প্রশ্নোত্তর বিভাগ, ছোট গল্প, রম্যরচনা, প্রবন্ধ, ভিন্নস্বাদের ফিচার। আনন্দবাজার পত্রিকা, সানন্দা, আনন্দলোক, বর্তমান, সাপ্তাহিক বর্তমান, সুখী গৃহকোণ, সকালবেলা সাপ্তাহিকী, নবকল্লোল, শুকতারা, দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়ার নিবেদন 'আমার সময়' সহ অসংখ্য পত্রিকায় স্থান পেয়েছে অজস্র ভ্রমণকাহিনি, গবেষণাধর্মী মনোজ্ঞ রচনা।

Check Also

Diwali

দীপাবলি উৎসব কি ও কেন পালন করা হয় – শিবশংকর ভারতী

ঈশ্বরীয় আবেশে ভরা দীপান্বিতা। এ নামের মধ্যে রয়েছে ইতিহাস ও পুরাণের অভিবন্দনা। উচ্ছ্বাস নেই, আছে হৃদয় থেকে উৎসারিত অফুরন্ত আনন্দের প্রজ্বলিত আলোকমালা।

17 comments

  1. Eto din pai ni keno roj er rashifal

  2. Roj er rasifol er update pachina Kano?roj rasifol er update pale vlo hoy.ajker ta vlo laglo.

  3. প্রতিদিন পেলে ভালো হয়। ওনার গণনা সত্যি সঠিক। আর আমি ওনার লেখা ভ্রমন ও সাধুসঙ্গ সবকটি খন্ডই পড়েছি। ভালো জীবনি শক্তি বাড়ে।

  4. Rojkar rasifal ta pala valo lagba

  5. Tushar jyoti samanta.

    Khub khub valo.

  6. Eta ki moonsign onujai naki sunshine?

  7. bhalo laglo tobe daily or weekly pele aro bhalo hobe

  8. Subrata Chakraborty

    আমি অনেক বছর থেকে পড়ে আসছি উনার লেখা। মনে হয় ১৯৭৬ এ নবকল্লোল এ প্রথম।তারপর বর্তমান পূজা সংখ্যা, সাপ্তাহিক বর্তমান এ ও অনেক পড়েছি। উনার লেখা যেখানেই দেখি পড়তে ইচ্ছে হোয়। এমন কি উনাকে দেখতেও খুব ইচ্ছে হয়।

  9. Thanks Mr. Bharati…. আমি আপনার রাশি ফলাফল everyday check করি

  10. Apnar kotha shunte o lekha porte amader khub valo lage

  11. Thank you so much!

  12. uttam kumar Mridha

    Nice but need more details .

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.